সোহাগপুর পশুর হাটে মোবাইল কোর্ট, ৪০ হাজার টাকা জরিমানা

প্রকাশক: Dainik Jagroto Matrivumi JM Television
প্রকাশ: 47 seconds ago

আল-আমিন হোসেন,সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সোহাগপুর গরু-ছাগলের হাটে সরকার নির্ধারিত হারের চেয়ে অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বুধবার (২৭ মে ২০২৬) দুপুর ১টা ৩০ মিনিট থেকে ২টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত হাটে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন বেলকুচি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান।

অভিযানকালে দেখা যায়, সরকার নির্ধারিত রেট অনুযায়ী মোটেও হাসিল আদায় করা হচ্ছে না এবং অনেক রশিদে আদায়কৃত টাকার প্রকৃত পরিমাণ পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়নি। হাটে আসা গরু ও ছাগলের একাধিক ক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছাগলের ক্ষেত্রে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত এবং গরুর ক্ষেত্রে ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত হাসিল জোরপূর্বক আদায় করা হচ্ছিল।সরকারি নির্ধারিত নীতিমালা ও হার অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত মূল্যের ছাগল ও ভেড়ার জন্য ২৫০ টাকা এবং ১০ হাজার টাকার বেশি মূল্যের পশুর জন্য ৩০০ টাকা হাসিল নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। এছাড়া গরু ও মহিষের ক্ষেত্রে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ৫০০ টাকা এবং ১ লাখ টাকার বেশি মূল্যের পশুর জন্য ৬০০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে হাটের ইজারাদাররা এর চেয়ে অনেক বেশি অর্থ আদায় করছিলেন বলে হাতেনাতে প্রমাণ পাওয়া যায়। মোবাইল কোর্ট চলাকালে সরেজমিনে তল্লাশি চালিয়ে কয়েকটি অতিরিক্ত টাকার রশিদ জব্দ করা হয়।

পরবর্তীতে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর এবং পরিচালনাকারীর স্পষ্ট স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে সোহাগপুর হাটের অন্যতম পরিচালনাকারী হাজী মো. আমিরুল ইসলামকে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর সংশ্লিষ্ট ধারার আওতায় ৪০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। জরিমানার এই অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে নগদ আদায় করা হয়েছে এবং পরবর্তী কার্যদিবসে তা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়।এ বিষয়ে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান গণমাধ্যমকে বলেন, “সরকার নির্ধারিত রেটের বাইরে সাধারণ ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত হাসিল বা চাঁদা আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। জনস্বার্থে এবং ক্রেতা ও খামারিদের অধিকার রক্ষায় সামনেও আমাদের এই নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি সরকার নির্ধারিত রেট ও সকল আইনি বিধি মেনে হাট পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট ইজারাদারদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।” এদিকে প্রশাসনের এই ঝটিকা অভিযানের খবরে হাটে আসা দূর-দূরান্তের খামারি, পশুর ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক স্বস্তি ফিরে আসে। তারা স্থানীয় প্রশাসনের এ ধরনের জনমুখী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে পবিত্র ঈদুল আজহা পর্যন্ত হাটে নিয়মিত তদারকি বজায় রাখার জোর দাবি জানান।

  • অতিরিক্ত হাসিল আদায়
  • ইসরাত জাহান এসি ল্যান্ড
  • পশুর হাট ২০২৬
  • ভোক্তা অধিকার আইন
  • মোবাইল কোর্ট
  • সোহাগপুর পশুর হাট