
আল আমিন হোসেন,সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের স্থানীয় টুইস্টিং মিল এবং কালার কারখানাগুলোতে বিভিন্ন অজুহাতে সৃষ্ট হয়রানি বন্ধের দাবিতে সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সাথে এক জরুরি মতবিনিময় সভা সম্পন্ন হয়েছে। (১৭ মে) দুপুরে সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ভবনের নিজস্ব হলরুমে টুইস্টিং মিল সুতা ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে এই সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চেম্বারের প্রেসিডেন্ট সাইদুর রহমান বাচ্চু।
উক্ত সভায় ব্যবসায়ী স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে বক্তব্য রাখেন চেম্বারের ভাইস প্রেসিডেন্ট লিটন সাহা, সিরাজগঞ্জ ইয়ার্ন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল হান্নান, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী বোখারী, টুইস্টিং মিল সুতা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শরীফুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম খোকনসহ অন্যান্য ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।আলোচনায় বক্তারা উল্লেখ করেন, সিরাজগঞ্জ পৌরসভা ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে প্রায় তিন শতাধিক কালার ও টুইস্টিং মিল কারখানা চালু রয়েছে।
এই ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সরাসরি ১০ হাজারেরও বেশি শ্রমজীবী মানুষ কাজ করছেন, যা তাঁদের পরিবার পরিজনের জীবিকা নির্বাহের প্রধান উৎস। এছাড়া প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জেলার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ এই সুতা ও টেক্সটাইল শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। মিল মালিকদের দাবি, টুইস্টিং মিলগুলো থেকে যে সামান্য শব্দ তৈরি হয় তা সম্পূর্ণ সহনীয় মাত্রার। অন্যদিকে, কালার কারখানাগুলোতে এসিড, কস্টিক, হাইড্রোস কিংবা সোডার মতো উচ্চমাত্রার ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা হয় না। এখানে তুলনামূলক কম ক্ষতিকর রং স্টিম বা বাষ্পের মাধ্যমে কাপড়ে প্রয়োগ করা হয়, যা পরিবেশের ওপর বড় ধরনের কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না।মতবিনিময় সভায় ব্যবসায়ী নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের কিছু কর্মকর্তা প্রায়শই কারখানাগুলোতে এসে ইটিপি (Effluent Treatment Plant) স্থাপনের জন্য অযথা চাপ সৃষ্টি করছেন। কিন্তু বাস্তব চিত্র হলো, অধিকাংশ ক্ষুদ্র ও মাঝারি ধারার মিল মালিকদের পক্ষে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করে এককভাবে ইটিপি প্ল্যান্ট স্থাপন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।উদ্ভূত পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সভা থেকে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ সরকারের সমীপে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—সরকারি অর্থায়ন ও ব্যবস্থাপনায় সিরাজগঞ্জে একটি ‘কেন্দ্রীয় ইটিপি প্ল্যান্ট’ স্থাপন করা, সরকারি খাস জমিতে এই কারখানাগুলো পরিকল্পিতভাবে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা, পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের অনাকাঙ্ক্ষিত হয়রানি বন্ধ করা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কিছু নামধারী সাংবাদিকের অপতৎপরতা ও হয়রানি বন্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ।
সভায় সিরাজগঞ্জ টুইস্টিং মিল ও সুতা মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন মিলের প্রায় শতাধিক মালিক এবং শ্রমিক প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
