
মোঃমনির,ঠাকুরগাঁও সদর প্রতিনিধি:
দুই ঈদে উৎসব বোনাস, মাসিক চিকিৎসা ভাতা এবং অবসর গ্রহণের ১৫ বছর পর পুনরায় মাসিক পেনশন চালুর দাবিতে ঠাকুরগাঁওয়ে বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত থাকার অভিযোগ তুলে দ্রুত এসব দাবি বাস্তবায়নের জোর আহ্বান জানান তারা।আজ শনিবার (৬ জুন ২০২৬) দুপুরে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাব চত্বরে ‘গ্রামীণ ব্যাংক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি’ ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার উদ্যোগে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে জেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আগত গ্রামীণ ব্যাংকের কয়েকশত অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন। এ সময় তারা নিজেদের ন্যায্য দাবিসংবলিত বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে সংগঠনের ঠাকুরগাঁও জেলা কমিটির সভাপতি হাবিবুর রহমান বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছি। ২০০৪ সালে অর্থ মন্ত্রণালয় একটি স্পষ্ট প্রজ্ঞাপন জারি করে, যেখানে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুই ঈদে দুটি উৎসব ভাতা প্রদানের কথা বলা হয়েছে। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের আরেকটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে শতভাগ পেনশন গ্রহণকারীদের মাসিক চিকিৎসা ভাতা দেওয়ার আইনি বিধান করা হয়। এছাড়া ২০১৮ সালে জারি করা আরেকটি যুগান্তকারী প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, যারা শতভাগ পেনশন সমর্পণ বা গ্রহণ করেছেন, তারা অবসর গ্রহণের ১৫ বছর পর পুনরায় মাসিক পেনশন সুবিধার আওতায় আসবেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, দেশের বিভিন্ন সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠান এসব প্রজ্ঞাপন অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করলেও গ্রামীণ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এখনো তা কার্যকর করেনি।”তিনি আরও বলেন, “আমরা গ্রামীণ ব্যাংকের কাছে কোনো অতিরিক্ত সুবিধা বা দয়া ভিক্ষা চাচ্ছি না। আমরা শুধু সরকারের জারি করা বিদ্যমান প্রজ্ঞাপনে বর্ণিত আমাদের আইনসম্মত সুবিধাগুলো বাস্তবায়ন চাই।”সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম হাবিব বলেন, “আজকের বিশ্বখ্যাত গ্রামীণ ব্যাংকের উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক স্তরে সাফল্য ও সমৃদ্ধির পেছনে আমাদের মতো হাজার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর জীবনের সোনালী সময়ের শ্রম, মেধা ও ত্যাগ জড়িয়ে রয়েছে। অথচ অবসরের পর আজ আমরা চরম অবহেলা ও তীব্র আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছি।
বার্ধক্যজনিত কারণে অনেকেরই চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আমরা চাই বর্তমান সরকার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করুক এবং আমাদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নে গ্রামীণ ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করুক।”মানববন্ধনে আবেগঘন বক্তব্য রাখেন সংগঠনের প্রবীণ সদস্য মনতাজ আলী খান।
তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “যখন গ্রামীণ ব্যাংক আমাদের নিয়োগ দিয়েছিল, তখন দেশের প্রত্যন্ত ও দুর্গম অঞ্চলে কাজ করার জন্য আমাদের তরুণ ও কর্মঠ বয়সটাকে বেছে নেওয়া হয়েছিল। আমরা পরিবারের মায়া ত্যাগ করে গ্রামীণ জনপদে গিয়ে দিন-রাত পরিশ্রম করেছি। আমাদের ঘাম ও ত্যাগের মাধ্যমেই তিলে তিলে গড়ে উঠেছে আজকের এই গ্রামীণ ব্যাংক। কিন্তু আজ জীবনের শেষ অপরাহ্নে এসে সেই প্রতিষ্ঠানই আমাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। আমাদের মধ্যে অনেকেই চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে না পেরে ধুঁকে ধুঁকে মরছেন। আমরা কোনো অনুগ্রহ চাই না, জীবনের শেষ সময়ে এসে সম্মান ও প্রাপ্য অধিকারটুকু নিয়ে বাঁচতে চাই।”বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী এই তিন দফা দাবি যদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা না হয়, তবে আগামীতে গ্রামীণ ব্যাংকের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ঘেরাওসহ দেশব্যাপী আরও বৃহত্তর ও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।উক্ত মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন—সংগঠনের জেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীল সদস্য আব্দুল আজিজ, শাহজাহান আলম, একরামুল হক, সাবদারুল হকসহ গ্রামীণ ব্যাংকের বিপুল সংখ্যক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় সচেতন সুধীজন।
