
ইমান আলী, স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা
সংস্কারের দোহাই দিয়ে জাতীয় নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ার ভীতি থেকেই জুলাই জাতীয় সনদে আপসের ভিত্তিতে স্বাক্ষর করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই তথ্য জানান।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে অনেক বিষয়েই নীরবতা পালন করতে হয়েছে এবং সম্ভাব্য জটিলতা এড়াতে রাজনৈতিক সমঝোতার পথ বেছে নেওয়া হয়েছিল। তাঁর ভাষায়, “নির্বাচন বিঘ্নিত হতে পারে—এমন শঙ্কা থেকেই আমরা আপস করেছি এবং জুলাই সনদে দস্তখত করেছি।”
জুলাই বাস্তবায়ন আদেশের বিষয়ে তিনি বলেন, এ নিয়ে ইতিপূর্বে দলীয় অবস্থান পরিষ্কার করা হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলের মাঝে মতভেদও বিদ্যমান ছিল।
তিনি আরও বলেন, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রভাব নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে অতীতের রাজনৈতিক পটভূমিও বিবেচনায় রাখা দরকার।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাকস্বাধীনতার অপব্যবহার করে অশালীনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী। তিনি সতর্ক করে বলেন, এটি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে সামাজিক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
রাজনৈতিক ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে তিনি তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে বলেন, ঐতিহাসিক চেতনা বা আন্দোলনের সাফল্যকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করে এর মূল আদর্শকে অন্তরে ধারণ করা উচিত। একই সঙ্গে তিনি অতীতের বিভেদকামী রাজনীতির তীব্র সমালোচনা করেন।
বিরোধী দলের ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠনকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করে তিনি পারস্পরিক যোগাযোগ ও তথ্য বিনিময়ের আহ্বান জানান।
ব্যাংকিং খাত, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সংস্কার কার্যক্রম নিয়েও তিনি বিশদ বক্তব্য রাখেন। পরিশেষে রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, সংকটকালীন সময়ে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অত্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা হয়েছে।
