
-মঈনউদ্দিন, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সব ধরনের দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবিতে সারা দেশ জুড়ে আন্দোলন করছে আল্লামা ইমাম হায়াত প্রবর্তিত ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ স্টুডেন্ট ফ্রন্ট।
এই তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন ইনসানিয়াত বিপ্লব স্টুডেন্ট ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাগর খাঁন দিপু।
সাগর খাঁন দিপু থেকে জানা যায় যে, মানবতার রাজনীতির প্রবক্তা এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আল্লামা ইমাম হায়াতের দিক নির্দেশনায় সারা দেশব্যাপী ইনসানিয়াত বিপ্লব স্টুডেন্ট ফ্রন্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ পালন করছে। তারা অত্যন্ত দ্রুত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সব ধরনের দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ করে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার জোরালো দাবি জানায়। অন্য দিকে ক্যাম্পাসে একক দলীয় রাজনীতির পরিবর্তে ডাকসু, চাকসু ও ছাত্র সংসদসহ বিভিন্ন একাডেমিক রাজনীতি চর্চার ব্যবস্থা থাকতে পারে বলে তারা উল্লেখ করেন।
মানবতার রাজনীতির প্রবক্তা এবং বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন— আমরা সকল বস্তুর ঊর্ধ্বে স্রষ্টার নামে ও মহান রাসুলের আলোকে জীবনের আত্মিক সত্যভিত্তিক এবং সকল একক গোষ্ঠীবাদী, ধর্মবাদী ও জাতিবাদী অপরাজনীতি বিরোধী এক মানবতাভিত্তিক রাজনৈতিক দল। বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লব মনে করে সকল সর্বজনীন প্রতিষ্ঠানে দলীয় রাজনীতির শাখা থাকা অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং এটি একটি অনধিকার অন্যায় কাজ।
আমরা ইনসানিয়াত বিপ্লব মানবতার রাজনীতিকে জীবনের এবং অস্তিত্বের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গণ্য করি।
আমাদের বিশ্লেষণ ও উপলব্ধি হচ্ছে— প্রাকৃতিক শক্তির পর রাজনীতিই জীবন, সম্পদ এবং পৃথিবীর প্রধান নিয়ন্ত্রক ও চালিকা শক্তি। ফলে অরাজনৈতিক হওয়া সম্ভব নয়।
অরাজনৈতিক হওয়া কিংবা মানবতা বিরোধী কোনো একক গোষ্ঠীবাদী অপরাজনীতির অংশ হওয়া— এই উভয়ই জীবন বুঝতে পারার অক্ষমতা। নির্দলীয় হওয়া এবং অরাজনৈতিক হওয়া এক বিষয় নয়, এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন।
আমরা ইনসানিয়াত বিপ্লব মনে করি, কোনো মানুষের জন্য জীবনের যেকোনো পর্যায়ে অরাজনৈতিক হওয়া যেমন জীবনকে অস্বীকার করা, ঠিক তেমনি জীবনবিরোধী ও মানবতাবিধ্বংসী অপরাজনীতিকেও জীবনের জন্য ধ্বংসাত্মক এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে উপলব্ধি করি।
আমরা ইনসানিয়াত বিপ্লব জীবন এবং মানবতার রাজনীতিকে পৃথক করে দেখি না; বরং জীবন ও মানবতার রাজনীতিকে একাকার হিসেবে বিবেচনা করি।
আমরা জীবন ও রাজনীতিকে যেমন আলাদা মনে করি না, তেমনি রাজনীতি ও নাগরিকত্বকেও পৃথক ভাবি না, বরং একে একাকার হিসেবে দেখি।
আমরা ইনসানিয়াত বিপ্লব জীবনের জন্য অপরিহার্য মানবতার রাজনীতি বা যেকোনো রাজনীতি এবং দলীয় রাজনীতির সাংগঠনিক বিষয়কেও এক নয় বলে মনে করি।
আমরা সব মত, পথ ও আদর্শের যার যার রাজনৈতিক দর্শন এবং দল নিয়ে চলার অধিকার যেমন স্বীকার করি, ঠিক তেমনি কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সরকার ও রাষ্ট্রের ওপর বলপূর্বক কোনো ধর্ম, মত বা মতবাদের রাজনীতি কিংবা দলীয় আধিপত্য চাপিয়ে দেওয়াকে দস্যুতান্ত্রিক ও জবরদখলের অপরাজনীতি মনে করি এবং একে জীবন ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চরম ধ্বংসাত্মক অপরাধ হিসেবে ঘৃণা করি।
আমরা ইনসানিয়াত বিপ্লব জীবনসত্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে জীবনের নিয়ন্ত্রক ও চালিকা শক্তি এবং জীবনের ভালো-মন্দের সাথে একাকার বিষয় হিসেবে রাজনীতিকে উপলব্ধি করি।
আমরা মনে করি, ছাত্রজীবন থেকেই সব মানুষের জন্য সুরাজনীতি ও কুরাজনীতি বুঝে সুরাজনীতির ধারক হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
বর্তমান পৃথিবীতে বিভিন্ন ধর্মের নামে একক ধর্মরাষ্ট্রের উগ্রবাদী ও হিংস্র সাম্প্রদায়িক রাজনীতি এবং একক জাতিবাদী উগ্র রাজনীতি— এই দুই একক গোষ্ঠীবাদী রাজনীতি জীবনের স্বাধীনতা ও মানবতার বিরুদ্ধে অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং এটিই সকল সংকটের মূল উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আমরা ইনসানিয়াত বিপ্লব বিশেষভাবে ছাত্রজীবনকে জীবন বোঝার, সত্য ও মিথ্যার ধারা উপলব্ধি করার, জীবনের সুপথ ও কুপথ চেনার এবং শত্রু-মিত্র চেনার মাধ্যম মনে করি। জীবন ও রাষ্ট্রের সম্পর্ক বোঝা, জীবনের অধিকার ও স্বাধীনতা এবং শোষণ-বঞ্চনার কারণসমূহ অর্থাৎ সকল অপশক্তির অপরাজনীতির ধারা বুঝে মানবতার মুক্তির পথ পাওয়ার জন্য জীবনের একাকার ধারা হিসেবে এবং মানবতার সুরক্ষায় প্রাকৃতিক মানবতার রাজনীতির সক্রিয় ধারক হওয়া অক্সিজেনের মতো জরুরি বলে মনে করি।
কিন্তু আমরা ইনসানিয়াত বিপ্লব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় কেন্দ্র, আদালত, হাসপাতাল, অফিস, কর্মস্থল, কল-কারখানা এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনসহ বিশেষ কাজের স্থানগুলোতে কোনো রাজনৈতিক দলের অফিশিয়াল শাখা সংগঠন ও দলীয় সংঘাত বা আধিপত্য বিস্তার করাকে অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক ও অন্যায় অপরাজনীতি মনে করি।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের রাজনীতির চর্চা অবশ্যই থাকতে হবে, তবে তা হতে হবে কেবলমাত্র একাডেমিক, সংঘাতমুক্ত এবং নিরাপদ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ।
প্রতিষ্ঠানে কোনো রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম অত্যন্ত ক্ষতিকর, যা কেবল গুন্ডাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য দলীয় রাজনীতি নয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সকল অবাঞ্ছিত সংঘাত ও দলীয় আধিপত্য থেকে মুক্ত না রাখলে এর আসল উদ্দেশ্য নষ্ট হয়ে যাবে এবং এটি অসৎ স্বার্থের বিপজ্জনক হাতিয়ারে পরিণত হবে।
যেকোনো ভালো বিষয়ও যদি সঠিক স্থান, কাল ও পাত্র বুঝে প্রয়োগ না করা হয়, তবে তা শেষ পর্যন্ত ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়।
সর্বজনীন ও বিশেষ লক্ষ্যের প্রতিষ্ঠানে যদি পরস্পর দ্বান্দ্বিক ও সংঘাতময় দলীয় রাজনীতির শাখা থাকে, তবে তা সেই প্রতিষ্ঠানকে একটি ধ্বংসাত্মক যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করে।
