
আল-আমিন হোসেন, বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার শেরনগরে অবস্থিত অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘দিশারী ল্যাবরেটরী স্কুল’-এ অত্যন্ত উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে মধুমাস উদ্যাপন এবং ডিটিএইচ স্টার ট্যালেন্ট প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানে দেশীয় ফলের ঐতিহ্য তুলে ধরা, শিক্ষার্থীদের সুপ্ত মেধার বিকাশ এবং সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চাকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে বর্ণাঢ্য নানা আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর শিক্ষার্থীরা মধুমাস উপলক্ষে বিভিন্ন বিলুপ্তপ্রায় ও দেশীয় ফল যেমন—ভেউয়া, দেশি গাব, জাম, কাঁঠাল, লিচুসহ হরেক রকমের মৌসুমি ফল প্রদর্শন করে। ফল প্রদর্শনীর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দেশাত্মবোধক গান, কবিতা আবৃত্তি, তাৎক্ষণিক বক্তৃতা, সাধারণ জ্ঞান বা কুইজ ও অন্যান্য চমৎকার সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা গভীর মুগ্ধতা ও আনন্দঘন সময় উপভোগ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দিশারী ল্যাবরেটরী স্কুলের পরিচালক মাওলানা সাইদুল ইসলাম। তিনি তাঁর মূল্যবান ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে বলেন, “শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের চার দেয়ালে সীমাবদ্ধ রেখে গতানুগতিক জ্ঞান অর্জন করলেই চলবে না; বরং তাদের নৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল মানসিকতার বিকাশও সমানভাবে জরুরি। এ ধরনের ব্যতিক্রমী আয়োজন শিক্ষার্থীদের ভেতরের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বৃদ্ধি করে এবং তাদের সুপ্ত প্রতিভা প্রকাশের একটি সুন্দর ও সুস্থ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দেয়।”
সমগ্র অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সঞ্চালনা করেন প্রতিষ্ঠানের কোচিং শাখার পরিচালক আল আমিন হোসেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “মধুমাস আমাদের বাঙালির ঐতিহ্য, লোকজ ইতিহাস ও সংস্কৃতির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মাঝে দেশীয় ফল, প্রকৃতি ও সংস্কৃতির প্রতি অকৃত্রিম আগ্রহ সৃষ্টি করতেই আমাদের এই বিশেষ আয়োজন। পাশাপাশি ‘ডিটিএইচ স্টার ট্যালেন্ট’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আড়ালে লুকিয়ে থাকা মেধা ও সৃজনশীলতাকে সবার সামনে উন্মোচনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।”
এ সময় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন—স্কুল শাখার সহকারী পরিচালক রুপা খাতুন, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী শহিদুল ইসলাম ও আব্দুর রশিদসহ প্রতিষ্ঠানের সর্বস্তরের শিক্ষক-শিক্ষিকা, সাধারণ শিক্ষার্থী এবং বিপুল সংখ্যক অভিভাবকবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের শেষভাগে বিভিন্ন ইভেন্টের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ও বিজয়ী মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে আকর্ষণীয় পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পরিশেষে দেশ, জাতি এবং উপস্থিত সকল শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও দীর্ঘায়ু কামনা করে এক বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
প্রতিষ্ঠানের আয়োজক কমিটি সংবাদমাধ্যমকে জানান, শিক্ষার্থীদের মেধা, মনন, নৈতিকতা ও সুস্থ সাংস্কৃতিক বিকাশের স্বার্থে ভবিষ্যতেও এমন শিক্ষামূলক, বাস্তবমুখী ও সৃজনশীল কার্যক্রম নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।
