
জুনায়েদ,ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে পশুর হাট সংলগ্ন সড়কগুলোতে যান চলাচল সম্পূর্ণ নির্বিঘ্ন রাখতে এবং যেকোনো ধরনের চাঁদাবাজি ও ছিনতাই প্রতিরোধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার। একই সাথে পশুর হাট কেন্দ্রিক মলমপার্টির দৌরাত্ম্য রুখতে জেলা পুলিশের সকল সদস্যকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব এবং সতর্কতার সাথে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
গত মঙ্গলবার ২০২৬ খ্রি. ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা ও অপরাধ পর্যালোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।এদিন সকাল ১০টায় জেলা পুলিশ লাইন্স ড্রিলশেডে পুলিশ সুপারের সভাপতিত্বে মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলা পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। কল্যাণ সভায় অংশ নেওয়া পুলিশ সদস্যরা তাঁদের পেশাগত সুযোগ-সুবিধা, বিভিন্ন দাবি-দাওয়া ও কল্যাণমূলক প্রস্তাবনা পুলিশ সুপারের নিকট সরাসরি উত্থাপন করেন। পুলিশ সুপার সকলের বক্তব্য অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং উত্থাপিত সমস্যাগুলোর দ্রুত ও কার্যকরী আইনি সমাধান করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক নির্দেশনা প্রদান করেন।কল্যাণ সভা সমাপ্তির পর দুপুর ১২টায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় জেলার সার্বিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা করা হয়। পশুর হাটের সার্বিক নিরাপত্তা প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে পশুর হাট সংলগ্ন প্রতিটি রাস্তায় সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হবে। হাটকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, ছিনতাই কিংবা মলমপার্টির দৌরাত্ম্য কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। জেলা পুলিশের প্রতিটি সদস্যকে নিজের অর্পিত দায়িত্ব পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সাথে পালন করতে হবে।অপরাধ পর্যালোচনা সভায় বিগত এপ্রিল/২০২৬ মাসের সামগ্রিক পারফরমেন্সের ওপর ভিত্তি করে জেলা পুলিশের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী চৌকস অফিসারদের হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেন পুলিশ সুপার। ভালো কাজের স্বীকৃতি প্রদান এবং মাঠপর্যায়ে কাজের গতি বজায় রাখার লক্ষ্যে এই অফিসারদের পুরস্কৃত করা হয়। উভয় গুরুত্বপূর্ণ সভায় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দসহ জেলার সকল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।
