ভাঙ্গায় ঘুমন্ত স্বামীর পুরুষাঙ্গ কেটে দিলো দ্বিতীয় স্ত্রী

প্রকাশক: Dainik Jagroto Matrivumi JM Television
প্রকাশ: 2 hours ago

ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের ভাঙ্গায় পারিবারিক কলহ, একাধিক বিয়ে ও নির্যাতনের জেরে ঘুমন্ত স্বামীর পুরুষাঙ্গ কেটে দেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত স্ত্রীকে আটকে রেখে ‘জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯’-এ কল দিলে পুলিশ এসে তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।গুরুতর আহত অবস্থায় স্বামী হানিফ শেখকে (৩০) উদ্ধার করে প্রথমে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরবর্তীতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

আজ সোমবার (২৯ জুন ২০২৬) ভোরে ভাঙ্গা পৌরসভার হোগলাডাঙ্গী সদরদী গ্রামের একটি ভাড়া বাসায় এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে।আহত হানিফ শেখ পেশায় একজন কসমেটিকস ব্যবসায়ী। তিনি ভাঙ্গা উপজেলার মানিকদহ ইউনিয়নের ব্রাহ্মণকান্দা গ্রামের রফিক শেখের পুত্র। অপরদিকে অভিযুক্ত স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সুমি নগরকান্দা উপজেলার ফুলসুতি ইউনিয়নের ফুলসুতি গ্রামের নুরুল ইসলাম সরদারের কন্যা। তাঁরা দীর্ঘ দিন ধরে ভাঙ্গা পৌরসভার হোগলাডাঙ্গী সদরদী এলাকার মজিদ খানের ভবনের নিচতলায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।উক্ত ভবনের মালিক (যিনি পেশায় একজন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা) জানান, “গতকাল রাতেও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র কথা কাটাকাটি ও ঝগড়া হয়। আজ সকালে স্বামী হানিফ শেখ বিছানায় ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় ধারালো ব্লেড দিয়ে তাঁর পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলেন স্ত্রী।

এ সময় হানিফের গোঙানি ও আত্মচিৎকার শুনে ভবনের অন্য ফ্ল্যাটের বাসিন্দা ও প্রতিবেশীরা দ্রুত ছুটে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন।”স্থানীয় ব্যবসায়ী জাহিদ সংবাদমাধ্যমকে জানান, হানিফ কসমেটিকস ব্যবসা করার সুবাদে একাধিক নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন বলে এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে। এ নিয়ে তাঁর স্ত্রীদের সাথে প্রায়ই পারিবারিক কলহ ও তুমুল ঝগড়া হতো।পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় অভিযুক্ত স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সুমি নিজের ক্ষোভ ও নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে বলেন, “আমার স্বামী আমার অজান্তে তিনটি বিয়ে করেছে। তাঁর অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও নির্যাতনের কারণে তাঁর অন্য এক স্ত্রী ইতিপূর্বে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে। এত কিছুর পরও সে প্রতিনিয়ত অন্য নারীদের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছিল। আমি এই সবের প্রতিবাদ করলেই সে আমাকে প্রায়ই মশা মারার জ্বলন্ত কয়েলের আগুন দিয়ে ছ্যাঁকা দিত এবং অমানুষিক মারধর করত। আমার শরীরে এখনো নির্যাতনের অনেক ক্ষত রয়েছে। আজ ভোরে তাঁর নির্যাতন ও পরকীয়ার সহ্যের সীমা অতিক্রম করায় আমি ব্লেড দিয়ে তাঁর পুরুষাঙ্গ কেটে দিয়েছি।”এ ব্যাপারে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “৯৯৯-এর মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে আমাদের পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই নারীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। আহত ব্যক্তি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

  • পারিবারিক কলহ
  • ফরিদপুর সংবাদ
  • ভাঙ্গা উপজেলা
  • স্বামীর পুরুষাঙ্গ কর্তন