অসহায় রেজিয়া বেগমের মুখে হাসি ফোটালেন ছাত্রদল নেতা মো. রেজু

প্রকাশক: Dainik Jagroto Matrivumi JM Television
প্রকাশ: 3 hours ago

মোঃমনির, ঠাকুরগাঁও সদর প্রতিনিধি: দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ একটি ভাঙা টিনের ঘরে চরম মানবেতর ও কষ্টকর জীবন কাটাচ্ছিলেন ঠাকুরগাঁও শহরের গোবিন্দনগর এলাকার সুরমা পাম্পের পেছনের বাসিন্দা অসহায় বৃদ্ধা রেজিয়া বেগম। সামান্য শিলাবৃষ্টিতেই ছিদ্র হয়ে যাওয়া পুরনো টিনের চাল দিয়ে আকাশ মেঘলা হলেই ঘরের ভেতরে অঝোরে পানি পড়ত। একটি নিরাপদ ও শুকনো আশ্রয়ের অভাবে বছরের পর বছর চরম দুর্ভোগের মধ্যেই দিন কাটছিল তার। অবশেষে সেই দীর্ঘ কষ্টের দিন পেছনে ফেলে মাথা গোঁজার এক নতুন পাকা ঠিকানা পেলেন তিনি।

সম্প্রতি রেজিয়া বেগমের এমন অসহায় ও কষ্টকর জীবনযাপনের একটি বাস্তব চিত্র সম্বলিত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি দ্রুত নজরে আসে ঠাকুরগাঁও জেলা ছাত্রদলের অন্যতম নেতা মো. রেজুর। ভিডিওটি দেখে তিনি গভীর মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে অসহায় এই নারীর পাশে এসে দাঁড়ান এবং স্থানীয় বিএনপি-ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিদের প্রতি মানবিক সহযোগিতার জোরালো আহ্বান জানান।তরুণ এই ছাত্রদল নেতার আন্তরিক আহ্বানে সাড়া দিয়ে অনেকেই এগিয়ে আসেন এবং ব্যক্তিগত তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। সবার সম্মিলিত অর্থায়ন ও অক্লান্ত প্রচেষ্টায় অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যেই রেজিয়া বেগমের জন্য নির্মাণ করা হয় একটি নতুন, নিরাপদ ও সম্পূর্ণ বসবাসযোগ্য ঘর। নতুন এই ঘরের চাবি আনুষ্ঠানিকভাবে হাতে পেয়ে আনন্দে আপ্লুত হয়ে পড়েন ভাগ্যবঞ্চিত এই নারী।স্থানীয় প্রতিবেশী সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই দশক (২০ বছর) আগে রেজিয়া বেগমের স্বামী মারা যান। জীবিত অবস্থায় তিনি দিনমজুরের কাজ করে কোনোমতে সংসার চালাতেন। স্বামীর মৃত্যুর পর কোনো সন্তান বা স্থায়ী উপার্জন না থাকায় চরম অভাব-অনটন আর নানা সামাজিক প্রতিকূলতার সঙ্গে একা লড়াই করেই জীবন কাটাচ্ছিলেন রেজিয়া বেগম। নুন আনতে পান্তা ফুরানো এই সংসারে নিজের জন্য একটি নিরাপদ ঘরের স্বপ্ন দেখাটা যেন তাঁর কাছে এক অধরাই থেকে গিয়েছিল।নতুন পাকা ঘরের চাবি পেয়ে অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে অশ্রুসিক্ত চোখে রেজিয়া বেগম বলেন, “এতদিন ভাঙা ঘরে খুব কষ্টে রাত পার করেছি বাবা।

সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরের বিছানাপত্র সব ভিজে পানি পড়ত, আতঙ্কে রাতে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারতাম না। এখন শেষ বয়সে মাথা গোঁজার জন্য একটি নতুন নিরাপদ ঘর পেয়েছি। যারা আমার এই কষ্টের দিনে পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন, মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাদের সবাইকে উত্তম প্রতিদান দিন।”এ বিষয়ে ছাত্রদল নেতা মো. রেজু তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “রাজনীতির পাশাপাশি সমাজের যেকোনো অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের প্রধান নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। রেজিয়া বেগমের মানবেতর জীবনযাপনের কথা জানতে পেরে আমরা সবাই মিলে একটি স্থায়ী ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলাম। আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টায় আজ একজন অসহায় মায়ের মুখে হাসি ফুটেছে, এটাই আমাদের বড় সার্থকতা। আগামীতেও সাধারণ মানুষের কল্যাণে এ ধরনের মানবিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকবে।”ঘর হস্তান্তর উপলক্ষ্যে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন—ঠাকুরগাঁও পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন, ১০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রশিদ বাচ্চু, ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. রেজু, মো. সাদেক, মো. কামাল, ছোটনসহ স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।স্থানীয় সুশীল সমাজ ও সচেতন মহলের মতে, প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে নতুন আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দেওয়ার এই উদ্যোগ বর্তমান তরুণ প্রজন্মের মানবিকতার এক উজ্জ্বল ও অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

  • অসহায় রেজিয়া বেগম
  • গোবিন্দনগর
  • ছাত্রদল নেতা মো. রেজু
  • ঠাকুরগাঁও সংবাদ
  • নতুন ঘর উপহার
  • সুরমা পাম্প