
মোঃ মনির, ঠাকুরগাঁও সদর প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের সাবেক সফল সভাপতি, উত্তরবঙ্গের প্রবীণ ও বিশিষ্ট সাংবাদিক এবং গণমানুষের অধিকার আদায়ের আপসহীন কণ্ঠস্বর সৈয়দ মিরাজুল ইসলাম আর নেই। আজ রবিবার (২১ জুন ২০২৬) দুপুরে ঢাকার বারডেম (BIRDEM) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল আনুমানিক ৭২ বছর। প্রবীণ এই সাংবাদিকের আকস্মিক প্রয়াণে ঠাকুরগাঁও জেলাসহ দেশজুড়ে গণমাধ্যমকর্মী ও সচেতন সমাজেন মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন। সম্প্রতি তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় আনা হয়। আজ দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন।
মরহুমের মরদেহ ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁওয়ে নিয়ে আসার পর শহরের ঐতিহাসিক সেনুয়া গোরস্থান মসজিদ প্রাঙ্গণে তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক, পেশাজীবী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, প্রশাসনের সুধীজন এবং সর্বস্তরের বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক মর্যাদায় সেনুয়া পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
জানাজা শেষে মরহুমের রুহের মাগফিরাত ও জান্নাতুল ফেরদাউস কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। এ সময় উপস্থিত সবাই শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের জড়িয়ে ধরেন এবং তাঁদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।
সুদীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময়ের সাংবাদিকতা জীবনে সৈয়দ মিরাজুল ইসলাম ছিলেন সত্য, ন্যায় ও শোষিত মানুষের পক্ষে এক নির্ভীক ও বজ্রকণ্ঠ। সততা, বস্তুনিষ্ঠতা, পেশাদারিত্ব ও সাহসিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে তিনি স্থানীয় সহকর্মী এবং সাধারণ মানুষের হৃদয়ে এক স্থায়ী শ্রদ্ধার আসন করে নিয়েছিলেন। তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের তরুণ সাংবাদিকদের জন্য ছিলেন এক আলোর দিশারী ও পরম অভিভাবক।
তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “সৈয়দ মিরাজুল ইসলাম মনে-প্রাণে বিশ্বাস করতেন—সাংবাদিকতা শুধু একটি পেশা নয়, এটি সমাজের প্রতি এক পবিত্র দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব তিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে গেছেন। মফস্বল সাংবাদিকতায় সত্যের পক্ষে আপসহীন অবস্থান, প্রখর মানবিকতা এবং অদম্য সাহসিকতার কারণে তিনি আজীবন সবার কাছে অনুকরণীয় ও শ্রদ্ধার পাত্র হয়ে থাকবেন। তাঁর এই মহাপ্রয়াণে উত্তরবঙ্গের সাংবাদিক সমাজ একজন আদর্শবান, প্রতিবাদী ও পরম দায়িত্বশীল অভিভাবককে হারালো, যা কখনোই পূরণ হবার নয়।”
তাঁর এই চিরবিদায়ে ঠাকুরগাঁওয়ের কর্মরত সকল সাংবাদিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, সুশীল সমাজ এবং সর্বস্তরের সচেতন মহল গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে। তাঁরা মরহুমের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন।
