নবীনগরে সরকারি খাল দখল করে দোকান নির্মাণ: নেপথ্যে প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করার অভিযোগ

প্রকাশক: Dainik Jagroto Matrivumi JM Television
প্রকাশ: 4 days ago

শেখ জুনায়েদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি.

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার কাইতলা দক্ষিণ ইউনিয়নে ঐতিহ্যবাহী কাইতলা-মহেশ রোডের সরকারি খাল দখল করে স্থায়ী দোকান ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রভাবশালী এক ব্যক্তি খালের ওপর রড-সিমেন্টের পিলার ঢালাই করে এই অবৈধ স্থাপনা তৈরি করছেন। অভিযোগ রয়েছে, এই দখলদারিত্বের পেছনে খোদ উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত রয়েছেন।

(৮ জুন) সরেজমিনে কাইতলা দক্ষিণ ইউনিয়নের মূল সড়ক সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ঐতিহ্যবাহী মহেশ খালের একটি বড় অংশ ভরাট ও দখল করে স্থায়ীভাবে রড-সিমেন্টের পিলার স্থাপন করা হয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি হামদু মিয়া কোনো তোয়াক্কা না করেই খালের ওপর এই পাকা দোকান ঘর নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।সরকারি খাল দখল করে দোকান নির্মাণের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত হামদু মিয়া অকপটে স্বীকার করেন যে, তিনি কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমতি নেননি। তবে অনুমতির জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর আবেদন পাঠিয়েছেন বলে দাবি করেন।এ সময় সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের টাকা দিয়ে আপস করার চেষ্টা করেন। হামদু মিয়া প্রকাশ্যেই বলেন, “অনেক সাংবাদিক এসেছে, টাকা নিয়ে আবার চলেও গেছে। আপনারাও টাকা নিয়ে চলে যান।” তার এমন মন্তব্য এবং কর্মকাণ্ডে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সরকারি খালটি উদ্ধার করার মতো যেন কেউ নেই। প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করেই হামদু মিয়া এই কাজ করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গ্রামবাসী বলেন, “প্রশাসন ম্যানেজ থাকলে আমাদের সাধারণ মানুষের প্রতিবাদে কিছুই আসে যায় না। সে টাকার জোরেই সরকারি জায়গা গিলে খাচ্ছে।” স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু এই একটি স্পট নয়, পুরো ইউনিয়ন জুড়েই প্রভাবশালীরা সিন্ডিকেট করে অধিকাংশ খাল নিজেদের দখলে নিয়ে নিয়েছে।এদিকে খালের জমি দখল ও নির্মাণকাজে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সিএ লুৎফর রহমান এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েবের (তহসিলদার) পরোক্ষ মদদ রয়েছে বলে স্থানীয় পর্যায়ে জোরালো গুঞ্জন উঠেছে।তবে কাইতলা দক্ষিণ ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা (তহসিলদার) বজলুল হক তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমরা এই অবৈধ নির্মাণকাজে দুবার নোটিশ দিয়ে বাধা দিয়েছি, যাতে এখানে দোকান ঘর নির্মাণ না করা হয়। বিষয়টি এসিল্যান্ড স্যারকেও অবগত করা হয়েছে।”এ বিষয়ে জানতে চাইলে নবীনগর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) খালিদ বিন মনসুর কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “সরকারি খাল বা জলাশয় দখল করার কোনো সুযোগ কারো নেই। বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। খুব শীঘ্রই এই অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে খালটি সম্পূর্ণ মুক্ত করার আইনগত উদ্যোগ নেওয়া হবে।”এলাকার পরিবেশ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল রাখতে এই ঐতিহ্যবাহী মহেশ খালটি দ্রুত দখলমুক্ত করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।