
আল-আমিন হোসেন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
“মানবতার সেবায় নিবেদিত, আসুন সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনে একসাথে কাজ করি”— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার ৬ নম্বর বড়ধুল ইউনিয়নের গাপচাপড়ি বাজারে এক দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসহায়, দরিদ্র ও চিকিৎসাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এ মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ৬ নম্বর বড়ধুল ইউনিয়নে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী শেখ শামীম বিন আমীর।মেডিকেল ক্যাম্পে শতাধিক নারী, পুরুষ, শিশু ও প্রবীণ রোগীকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, চিকিৎসা পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করা হয়।
ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা দেন বেলকুচির উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ইমরান হাসানসহ তিনজন অভিজ্ঞ মেডিকেল অফিসার।চিকিৎসা নিতে আসা স্থানীয়রা জানান, চরাঞ্চল ও প্রত্যন্ত এলাকার অনেক মানুষ অর্থনৈতিক অসচ্ছলতার কারণে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারেন না। ফলে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ প্রদানের এ উদ্যোগ তাদের জন্য অত্যন্ত উপকারী ও সময়োপযোগী হয়েছে। তারা আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।আয়োজক শেখ শামীম বিন আমীর বলেন, “মানুষের কল্যাণে কাজ করাই আমাদের লক্ষ্য। স্বাস্থ্যসেবা প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই বড়ধুল ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে আমরা এই ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করেছি। এটি কেবল একটি দিনের কর্মসূচি নয়, বরং একটি চলমান মানবিক উদ্যোগের অংশ।”তিনি আরও বলেন, “আমরা পর্যায়ক্রমে বড়ধুল ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করবো। আমাদের লক্ষ্য দুই হাজার রোগীকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করা। ইতোমধ্যে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে এবং ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।”মেডিকেল ক্যাম্পে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সামাজিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন। মানবিক এ উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং প্রশংসিত হয়েছে।স্থানীয়দের মতে, স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে এমন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য আশার আলো হয়ে উঠতে পারে। তারা মনে করেন, সমাজের বিত্তবান ও জনপ্রতিনিধিরা এ ধরনের কার্যক্রমে এগিয়ে এলে স্বাস্থ্যসেবা আরও মানুষের কাছে সহজলভ্য হবে।
