
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়ায় একটি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৫ মে) স্থানীয় পুলিশ এই প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে আটজন নিরাপত্তাকর্মী এবং একজন সাধারণ নাগরিক রয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী বাজৌর জেলায় অবস্থিত একটি স্কাউট ক্যাম্পে বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি নিয়ে হামলাকারীরা অনুপ্রবেশের চেষ্টা করলে এই ভয়াবহ বিস্ফোরণটি ঘটে। এই ঘটনায় আরও অন্তত ৩৫ জন নিরাপত্তাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, হামলাকারীরা বিস্ফোরকভর্তি যানবাহন নিয়ে জোরপূর্বক স্কাউট ক্যাম্পের প্রধান ফটক দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করেছিল। সেই সময় শক্তিশালী বিস্ফোরণে ক্যাম্পের প্রবেশদ্বার এবং আশপাশের দেয়াল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে ঘটনাস্থলেই ৮ জন নিরাপত্তাকর্মী প্রাণ হারান এবং আশপাশে থাকা এক বেসামরিক নাগরিকও প্রাণ হারান। ঘটনার পরপরই পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত এলাকাটি ঘিরে ফেলে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করে। খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে গভীর উদ্বেগ বিরাজ করছে।এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই আত্মঘাতী হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা চক্রদের শনাক্ত করতে কাজ শুরু করেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এই কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। বাজৌর জেলার এই হামলাটি পাকিস্তানের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির নাজুকতাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার পাশাপাশি সন্ত্রাসী কার্যকলাপ দমনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে।
