
জুনায়েদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার রামরাইল ইউনিয়নের বিজেশ্বর গ্রামে কথিত সন্ত্রাসী বাদশা চক্রের দাপটে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যুতা ও মাদক ব্যবসার অভিযোগে অভিযুক্ত এই চক্রের বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন এক সাংবাদিক। এই ঘটনায় অভিযোগ দায়েরের পরও এখনো কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকায় এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, গত ২৪ এপ্রিল শুক্রবার দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে বিজেশ্বর গ্রামের মুন্সিবাড়ি তিন রাস্তার মোড়ে জমির সীমানা প্রাচীর পরিমাপকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিরোধের সংবাদ সংগ্রহ করতে যান জাতীয় দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার ইয়াছিন মাহমুদ (ভূইয়া)। এ সময় তিনি অভিযুক্ত বাদশা চক্রের কর্মকাণ্ডের ভিডিও ধারণ করছিলেন।
ঠিক ওই মুহূর্তে বাদশা মিয়ার নেতৃত্বে ১০-১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল অতর্কিতভাবে তাঁর ওপর হামলা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা তাঁকে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে গুরুতর আহত করে এবং একপর্যায়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টাও চালায়। এ সময় তাঁর ব্যবহৃত একটি স্মার্টফোন ও পকেটে থাকা নগদ প্রায় ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জুমার নামাজের সময় অন্যান্য সাংবাদিকরা সাময়িকভাবে ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়। পরবর্তীতে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আহত সাংবাদিককে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
অভিযোগ সূত্রে আরও জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে পুঁজি করে অভিযুক্তরা স্থানীয়দের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। এই বিষয়ে এর আগেও থানায় অভিযোগ করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। এছাড়া ঘটনাস্থল ত্যাগের সময় হামলাকারীরা পুনরায় হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে।
এই নেক্কারজনক ঘটনায় মোহাইমিনুল হক (চুন্নু), বাদশা মিয়া, আনিছ মিয়া, হামদু মিয়া, রাব্বি মিয়া, মানিক মিয়া, বাবু মিয়া মুন্সী ও নিশাত মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে অভিযুক্ত করে সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন সাংবাদিক ইয়াছিন মাহমুদ। হামলার সময় অন্যান্য গণমাধ্যমকর্মীরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, পুরো বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
