ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কোরবানির চামড়ার বাজারে ধস: তৃণমূল পর্যায়ে তীব্র ক্ষোভ, লোকসানে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা

প্রকাশক: Dainik Jagroto Matrivumi JM Television
প্রকাশ: 14 hours ago

শেখ জুনায়েদ,ব্রাহ্মণবাড়িয়া:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পবিত্র ঈদুল আজহার কোরবানির পশুর চামড়ার বাজারে চরম ধস নেমেছে। চামড়ার এমন অস্বাভাবিক পতন ও নামমাত্র মূল্যের কারণে তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ কোরবানিদাতা ও মৌসুমী ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বড় সাইজের ভালো মানের গরুর চামড়াও আক্ষরিক অর্থেই পানির দরে বিক্রি হওয়ায় চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, এবার জেলাজুড়ে বড় আকারের গরুর চামড়াও মাত্র ৫০, ১০০, ১৫০, ২০০, ৩০০ এবং সর্বোচ্চ ৫০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। চামড়ার এমন অস্বাভাবিক ও নজিরবিহীন কম দাম গত কয়েক বছরের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে বলে স্থানীয়রা জানান। ন্যায্য দাম না পেয়ে অনেক গৃহস্থ ও কোরবানিদাতা দুপুরের পর পর্যন্ত চামড়া বিক্রি করতে না পেরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় বা বাড়ির সামনে অপেক্ষায় বসে ছিলেন। পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে নামমাত্র মূল্যে বা বিনে পয়সায় চামড়া ছেড়ে দিতে হয়েছে।চামড়া কিনে এখন চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় প্রান্তিক ক্ষুদ্র ও মৌসুমী ব্যবসায়ীরা।

মাঠপর্যায়ে গ্রামাঞ্চল থেকে কিছুটা বেশি দামে চামড়া কিনে আড়তে বা মূল বাজারে নিয়ে এসে তারা কাঙ্ক্ষিত দামের এক-চতুর্থাংশও পাচ্ছেন না। ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে এক স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ী বলেন, “আমি গ্রাম ঘুরে ঘুরে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পিস হিসেবে প্রায় ৩০০টি চামড়া কিনেছি। কিন্তু এখন বড় বাজারে নিয়ে আসার পর আড়তদার ও পাইকাররা প্রতি পিসের দাম মাত্র ১০০ টাকা বলছেন। গাড়ি ভাড়া আর লবণের খরচ তো দূরের কথা, এভাবে চললে আমাদের মূল পুঁজি হারিয়ে সম্পূর্ণ পথে বসতে হবে।”চামড়ার বাজারের এই বেহাল দশা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। তাদের অভিযোগ, একটি বিশেষ সিন্ডিকেটের কারসাজির কারণে গত কয়েক বছর ধরেই চামড়ার ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রান্তিক মানুষ। কোরবানি দেওয়া কয়েকজন সাধারণ মানুষ ক্ষোভের সাথে জানান, “গত কয়েক বছর ধরেই চামড়ার বাজারে এই নোংরা সিন্ডিকেট দেখছি। চামড়া বিক্রি করতে গেলে ১০০-১৫০ টাকার বেশি দাম বলতে চায় না। তাই লোকসান আর বিক্রির ঝক্কি এড়াতে আমরা অনেকেই এবার চামড়া সরাসরি স্থানীয় এতিমখানায় দান করে দিয়েছি।

এবার ভেবেছিলাম পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হবে, কিন্তু এবার দাম উল্টো আরও কম।”স্থানীয় সচেতন মহল ও অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, চামড়া শিল্পের এই চলমান বিপর্যয় ঠেকাতে, এতিম ও দুস্থদের হক রক্ষা করতে এবং তৃণমূলের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বাঁচাতে সরাসরি সরকারি কঠোর নজরদারি ও ট্যানারি মালিকদের সিন্ডিকেট ভাঙা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় দেশের অন্যতম বড় এই বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী রপ্তানি খাতটি অদূর ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের ধ্বংসাত্মক সংকটে পড়বে।

  • কোরবানির চামড়া ২০২৬
  • চামড়ার বাজারে ধস
  • ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদ