নববর্ষ উৎসব হিসেবে মহররম উদযাপন ইসলামের আদর্শ বিরোধী ও খারেজী চক্রান্ত: আল্লামা ইমাম হায়াত

প্রকাশক: Dainik Jagroto Matrivumi
প্রকাশ: 4 hours ago

মঈনউদ্দিন, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

নববর্ষ উৎসব হিসেবে হিজরি সালের প্রথম মাস মহররম উদযাপন করা ঈমানী অস্তিত্বের উৎস মহান শাহাদাতে কারবালার চেতনা বিরোধী এক গভীর খারেজি চক্রান্ত বলে অভিহিত করেছেন বিশ্ব সুন্নী আন্দোলন (World Sunni Movement) এর প্রতিষ্ঠাতা এবং বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রবর্তক আল্লামা ইমাম হায়াত।

ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান আল্লামা ইমাম হায়াত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, হিংস্র মুলুকিয়তের (রাজতন্ত্র/স্বৈরতন্ত্র) স্বৈরদস্যুতা থেকে সত্যের মুক্ত প্রবাহ ও স্বাধীন জীবন তথা ‘খেলাফতে ইনসানিয়াত’ রক্ষার শহীদ দিবসের মাস হলো এই মহররম। কোনো সচেতন বিবেকবান মুমিন এই মাসকে নববর্ষের আনন্দ উৎসব হিসেবে উদযাপন করতে পারে না; বরং এটি দোয়া ও আত্মোপলব্ধির মাধ্যমে পালন করা যেতে পারে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসলাম সূর্য, চন্দ্র বা কোনো মাস-বর্ষ ভিত্তিক ধর্ম নয়; ইসলাম হলো সত্য ভিত্তিক তথা তাওহীদ ও রেসালাতের ভিত্তিতে ঈমান, শরীয়ত ও খেলাফতে ইনসানিয়াত ভিত্তিক জীবনব্যবস্থা। কারবালার পবিত্র রক্ত মোবারকের স্মৃতিবিজড়িত এই মহররম মাসে যারা নববর্ষের নামে আনন্দ উদযাপন করে, তারা মূলত খারেজী মতবাদের অনুসারী এবং কারবালার নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডের পরোক্ষ শরিক।

আল্লামা ইমাম হায়াত আরও বলেন, চন্দ্র নববর্ষকে ‘ইসলামিক কালচারাল’ হিসেবে প্রদর্শনী করার অপচেষ্টা চালায় দ্বীন বিকৃতিকারী বাতিল মওদুদিবাদিরা। তারা মূলত বাঙালি সংস্কৃতির বৈশাখের সাথে কৃত্রিম দ্বন্দ্ব ও অন্য ধর্মের সাথে সংঘাত সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এবং দ্বীন-মিল্লাতের ক্ষতি করতেই এই প্রদর্শনী করছে। অথচ ঈমানের মৌলিক বিষয় ‘ঈদে আজম’ উদযাপনে তাদের চরম কার্পণ্য দেখা যায়। তিনি সুন্নী মুসলিম সমাজকে মওদুদিবাদের এই ঈমান ধ্বংসাত্মক অনুসরণ এবং অন্যান্য বস্তুবাদী মূর্খতার গড্ডালিকা প্রবাহে গা না ভাসিয়ে ঈমানী বিবেক নিয়ে চলার আহ্বান জানান।বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, মহররম প্রথমতঃ ঈমানী শোকের মাস এবং মহান কারবালার শাহাদাতের অন্তহীন ব্যথা ও লক্ষ্য বাস্তবায়নে জীবনপণ ঈমানী শপথের মাস। বর্তমানে যখন মুসলমানদের পবিত্র কেবলাভূমি বাতিলের জবরদখলে রুদ্ধ, দুনিয়ার বিভিন্ন স্থানে মর্মান্তিক গণহত্যা ও নিপীড়িতদের আর্তনাদ চলছে, এবং সুন্নীয়তের বিরুদ্ধে সর্ব বাতিলের সর্বাত্মক যুদ্ধ চলছে—এমন পরিস্থিতিতে চন্দ্র নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় বা উদযাপনের কোনো অবকাশ থাকতে পারে না।

ইমাম হোসাইন (রাদিআল্লাহু আনহু) এবং পবিত্র আহলে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লাম)-দের ওপর এজিদ বাহিনীর নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রতিটি প্রকৃত মুমিনের হৃদয় আজীবন ব্যথাতুর। যাদের হৃদয়ে কারবালার এই অন্তহীন বেদনা নেই, কেবল তারাই মহররমের শুরুতে আনন্দ উৎসব করতে পারে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, শাহাদাতে কারবালার শোক সমগ্র মুসলিম মিল্লাত ও মানবতার শোক, এটি কোনো বাতিল শিয়াদের নিজস্ব বিষয় নয়। বাতিল শিয়াবাদ মূলত কারবালার শোকের বিকৃত প্রদর্শনীর আড়ালে ইসলাম ধ্বংসের অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে।

আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, মহররম মাস আসলে একদিকে যেমন মুমিনদের পরিচয় প্রকাশ পায়, তেমনি অবাঞ্ছিত শুভেচ্ছা ও নির্মম উৎসবের মাধ্যমে মুনাফিকদের চরিত্রও উন্মোচিত হয়। বছর বা মাসের পরিক্রমা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক বিষয়, কোনো ঈমানী বিষয় নয়। যেকোনো নতুন বছর বা মাস শুরু হলে বিগত বছরের জন্য ক্ষমা (এস্তেগফার), আসন্ন বছরের জন্য রহমত ও হেফাজত কামনা, নফল নামাজ, সালাতু সালাম এবং দোয়ার মাধ্যমে শুরু করা যায়। কিন্তু খারেজি বাতিলরা কারবালার মূল শোক, শিক্ষা ও লক্ষ্য আড়াল করতে পহেলা মহররমকে আনন্দ উৎসব হিসেবে উদযাপনের ধৃষ্টতা দেখায়। মনে রাখতে হবে, মহররমের মূল ঈমানী বিষয় কেবলমাত্র কারবালার মহান শাহাদাত।

পরিশেষে, বিশ্ব সুন্নী আন্দোলন ও বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লবের উদ্যোগে আগামী ১০ই মহররম ‘মুসলিম মিল্লাতের মহান ঈমানী জাতীয় শহীদ দিবস শাহাদাতে কারবালা’র কর্মসূচি সফল করতে সর্বস্তরের মুমিন ভাইবোনদের যথা সময়ে উপস্থিত থাকার উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।