
শেখ জুনায়েদ,জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া:
বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থাকা বিগত স্বৈরাচারী আমলের দোসর ও সুবিধাভোগী গুপ্তচরদের অপসারণের লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাবেক ছাত্রনেতাদের সমন্বয়ে ৫১ সদস্যবিশিষ্ট একটি শক্তিশালী পরিষদ গঠন করা হয়েছে।
আজ ২৬ মে (২০২৬) মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকার অফিসার্স ক্লাবে আয়োজিত এক বিশেষ ও জরুরি সাধারণ সভায় উপস্থিত সকলের সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সংগঠনটির দায়িত্বশীল পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নবগঠিত এই পরিষদ অতি দ্রুততার সাথে রাষ্ট্রের সকল মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা থেকে সাবেক ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর এবং বিগত ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শাসন আমলে চিহ্নিত হওয়া ‘গুপ্ত অফিসারদের’ চিহ্নিত করে তাদের অপসারণে যাবতীয় আইনানুগ ও সাংগঠনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।অনুষ্ঠিত সভার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও পরিষদের মূল লক্ষ্য-উদ্দেশ্য জানিয়ে শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বলেন, ফ্যাসিস্টের দোসর ও ছদ্মবেশী গুপ্তচরেরা এখনো প্রশাসনের নীতি-নির্ধারণী গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল তবিয়তে রয়েছে। তারা বর্তমান সরকারের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বসে পর্দার আড়াল থেকে গোপনে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত এবং সরকারের জনকল্যাণমুখী ভালো উদ্যোগগুলোকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ফেলে ব্যর্থ করে দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। নেতৃবৃন্দ আরও যোগ করে বলেন, প্রশাসনে ঘাপটি মেরে থাকা এসব কর্মকর্তা ভিন্ন ও গণবিরোধী রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসী। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দীর্ঘ ১৮ মাসের দায়িত্ব পালনকালে তারা যাতে কোনোভাবেই একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে না পারে, সেজন্য নানামুখী নেতিবাচক কাজ ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিল। এখনো তারা এই গণতান্ত্রিক সরকারের বিপক্ষে অবস্থান করছে এবং বিপক্ষ শক্তিকে গোপনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচার ও সহযোগিতা করে যাচ্ছে। যার ফলে সুযোগসন্ধানী ষড়যন্ত্রকারীরা দেশকে পুনরায় অস্থিতিশীল করার দুঃসাহস দেখাচ্ছে।
দেশের আপামর জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং আমজনতার সার্বিক স্বার্থ রক্ষায় একটি স্বচ্ছ, শক্তিশালী ও খাঁটি দেশপ্রেমিক প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে নবগঠিত এই পরিষদ। একই সাথে, কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন, অবৈধ লবিং কিংবা গোপন তদবিরের সুযোগ নিয়ে ফ্যাসিবাদের দোসর ও গুপ্তচরেরা যাতে প্রশাসনে পুনরায় শক্ত অবস্থান তৈরি করতে না পারে—সে বিষয়ে কঠোর ও সতর্ক দৃষ্টি রাখা এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই পরিষদকে তাদের সার্বিক গবেষণা ও তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করবে ‘ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ সেল’। পরিষদের সকল জনমুখী কার্যক্রমে দেশের সর্বস্তরের দেশপ্রেমিক ও জাতীয়তাবাদী নাগরিকের সক্রিয় সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেছেন সদস্যবৃন্দ।অফিসার্স ক্লাবের সভায় উপস্থিত সকলের সর্বসম্মতিক্রমে ৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান প্রধান গুরুত্বপূর্ণ পদে যাদের নির্বাচিত করা হয়েছে, তাঁরা হলেন— সভাপতি মোঃ শরীফ হোসেন (লোক প্রশাসন বিভাগ, ঢাবি), সিনিয়র সহ-সভাপতি জাকির হোসেন শিশির (ইতিহাস বিভাগ, ঢাবি), সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম তুহিন (দর্শন বিভাগ, ঢাবি), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমীন লাভলু (দর্শন বিভাগ, ঢাবি), সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ হাসান আলী রেজা দোজা (রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাবি), প্রচার সম্পাদক মাহাবুবুর রশিদ টুটুল (দর্শন বিভাগ, ঢাবি), আন্তর্জাতিক সম্পাদক পাঠান মোঃ আল হেলাল আজম সোহাগ (রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাবি), আইন সম্পাদক আব্দুস সালাম (ঢাবি; অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট) এবং কোষাধ্যক্ষ খালিদ মোশাররফ জীবন (সমাজকল্যাণ বিভাগ, ঢাবি)। উক্ত কমিটিতে অন্যান্যের মধ্যে জিয়াউল হাসান নিক্সনসহ দেশের মোট ৫১ জন সাবেক তুখোড় ছাত্রনেতাকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কমিটির বাকি সদস্যদের পূর্ণাঙ্গ নামের তালিকা খুব দ্রুতই আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে বলে সভা সূত্রে জানা গেছে।
