শিশু রামিসা হ*ত্যা: সোহেল ও তার স্ত্রীকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দিচ্ছে পুলিশ

প্রকাশক: Dainik Jagroto Matrivumi JM Television
প্রকাশ: 4 hours ago

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর অত্যন্ত নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করছে পুলিশ। আজ (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গতকাল শনিবার বহুল প্রতীক্ষিত ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট পুলিশের হস্তগত হয়েছে এবং আজই বিজ্ঞ আদালতে এই দুই আসামির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে চার্জশিট জমা দেওয়া হবে।মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশু রামিসা রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকার পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

গত (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা নিজের ঘর থেকে বাইরে বের হলে ঘাতক সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে অত্যন্ত কৌশলে ও চাতুর্যের সাথে নিজেদের রুমের ভেতরে ডেকে নিয়ে যায়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য তার মা চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে অভিযুক্তদের রুমের দরজার সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পেয়ে রামিসার মায়ের সন্দেহ তীব্র হয়। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকির পরও ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং ভবনের অন্যান্য ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা সম্মিলিতভাবে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন রক্তাক্ত মরদেহ এবং বাথরুমের ভেতরের একটি বড় বালতিতে তার খণ্ডিত মাথাটি দেখতে পেয়ে স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরবর্তীতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে দ্রুত পল্লবী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে তাৎক্ষণিক হেফাজতে নেয়। পরে ব্যাপক প্রযুক্তিগত সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সম্মুখভাগ থেকে মূল ঘাতক সোহেল রানাকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেফতারে সক্ষম হয় পুলিশ।হৃদয়বিদারক ও লোমহর্ষক এই ঘটনায় পরদিন বুধবার নিহত ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর গত বুধবার (২০ মে) গ্রেফতারকৃত মূল আসামি সোহেল রানা বিজ্ঞ আদালতে হাজির হয়ে নিজের অপরাধের দায় স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় এক রোমহর্ষক ও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটানোর ঠিক আগে সে নিজে অতিমাত্রায় ইয়াবা সেবন করেছিল বলেও জবানবন্দিতে অকপটে স্বীকার করে এই পাষণ্ড ঘাতক।বিজ্ঞ আদালতে দেওয়া সেই জবানবন্দিতে ঘাতক সোহেল জানায়, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হওয়া মাত্রই তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে জোরপূর্বক নিজেদের রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে আটকে রেখে ছোট্ট রামিসাকে পাশবিকভাবে ধর্ষণ করে সোহেল।

লম্পট সোহেলের তীব্র অমানুষিক নির্যাতনে একপর্যায়ে অবচেতন হয়ে জ্ঞান হারায় শিশুটি। ঠিক ওই মুহূর্তেই রামিসার মা নিখোঁজ মেয়ের খোঁজে সোহেলের বাসার দরজায় এসে কড়া নাড়তে থাকেন। দরজার বাইরে মায়ের অবিরত আওয়াজ শুনে চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়ে ঘাতক সোহেল এবং নিজের অপরাধ চিরতরে ধামাচাপা দিতে সে তখনই বাথরুমে অবচেতন অবস্থায় পড়ে থাকা রামিসাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যা করে। পরবর্তীতে মরদেহ সম্পূর্ণ গুম করার উদ্দেশ্যে ধারালো ছুরি দিয়ে মাথা কেটে গলা থেকে আলাদা করে ফেলে। এমনকি দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে টেনে এনে শয়নকক্ষের খাটের নিচে লুকিয়ে রাখে। এই পুরো বর্বরোচিত ঘটনার সময় তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার একই রুমের ভেতর উপস্থিত থেকে তাকে সহায়তা করছিল। একপর্যায়ে বাইরে মানুষের হট্টগোল টের পেয়ে তারা কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পুলিশ জানায়, ডিএনএ রিপোর্ট এবং আসামির জবানবন্দিসহ সমস্ত অকাট্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আজই আদালতে এই বহুল আলোচিত মামলার চার্জশিট দাখিল করা হচ্ছে।

  • চার্জশিট দাখিল
  • ঢাকা অপরাধ
  • পল্লবী সংবাদ
  • শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড
  • সোহেল রানা
  • স্বপ্না আক্তার