থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত দুই শিশুর প্রাণ বাঁচানোর আকুতি: পাশে দাঁড়ানোর বিনীত আহ্বান

প্রকাশক: Dainik Jagroto Matrivumi JM Television
প্রকাশ: 3 hours ago

শেখ জুনায়েদ,জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া: “মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য”— এই চিরন্তন মানবিক বাণীকে বুকে ধারণ করে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকা দুটি নিষ্পাপ শিশুর জীবন বাঁচাতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে আর্থিক সহায়তার বিনীত আহ্বান জানানো হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ সজিব মিয়ার দুটি সন্তান বর্তমানে মরণব্যাধি থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত। বিগত প্রায় দুই বছর ধরে দেশ-বিদেশের নানা প্রান্তের সহৃদয়বান মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ আর্থিক সহায়তায় তাদের চিকিৎসা কোনোমতে চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। গ্রামের স্থানীয় সামাজিক সংগঠন এবং বহু মানবিক মানুষের ব্যক্তিগত যৌথ উদ্যোগে এ পর্যন্ত ৮ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছিল, যা দিয়ে শিশুদের প্রাথমিক ও নিয়মিত রক্ত পরিবর্তনের চিকিৎসা সচল রাখা হয়। তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, থ্যালাসেমিয়া রোগটি অত্যন্ত দীর্ঘমেয়াদী এবং এর স্থায়ী নিরাময় চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল।

শুরুতে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশুদের চিকিৎসা চললেও পরবর্তীতে দেশের প্রখ্যাত রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হেমাটোলজি বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডাঃ এম. এ. খানের তত্ত্বাবধানে ঢাকায় তাদের মূল চিকিৎসা শুরু হয়। আমাদের দেশে এই রোগের পূর্ণাঙ্গ উন্নত চিকিৎসা সেবা সীমিত হওয়ায় সাধারণত রোগীরা ভারত বা ব্যাংককে যান, যা এই সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য আকাশকুসুম কল্পনা। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ডাঃ এম. এ. খান শিশুদের ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালের থ্যালাসেমিয়া বিশেষজ্ঞ ডাঃ আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ-এর কাছে রেফার করেন। বর্তমানে ডাঃ আবু জাফর মোঃ সালেহ, ডাঃ স্মিতা হক ও ডাঃ আবু তাহির— এই তিন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ মেডিকেল টিম শিশুদের চিকিৎসা দিচ্ছেন। যেখানে প্রতি মাসেই নিয়মিত রক্ত প্রদান ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হচ্ছে।মেডিকেল বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশ্বমানের চিকিৎসা সুবিধাসম্পন্ন এভারকেয়ার হাসপাতালেই প্রথমে সজিবের বড় মেয়ে সুমাইয়া আক্তারের স্থায়ী চিকিৎসা শুরু হতে যাচ্ছে। গত ৮ মার্চ থেকে সুমাইয়ার পরীক্ষামূলক নানা প্রস্তুতিমূলক চিকিৎসা শুরু হয়েছে এবং আগামী ৩০ মে ২০২৬ ইং, রোজ শনিবার থেকে তার মূল অস্ত্রোপচার অর্থাৎ ‘বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট’ (Bone Marrow Transplant) শুরু হবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, শুধুমাত্র সুমাইয়ার এই জটিল ও উন্নত চিকিৎসা সম্পন্ন করতেই প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা প্রয়োজন, যা এ পর্যন্ত সংগৃহীত টাকার তুলনায় অনেক বেশি। পেশায় ড্রাইভার সজিবের পরিবারের পক্ষে এই বিপুল অংকের টাকা একাকী জোগাড় করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সজিব বর্তমানে ‘এশিয়া লিংক ডিজাইন’ (Asia Link Design) নামক একটি বায়িং হাউজে কর্মরত আছেন। মানবিক দিক বিবেচনা করে প্রতিষ্ঠানটির সম্মানিত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সজিবের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং মেয়েটির চিকিৎসা সফলভাবে সম্পন্ন করতে যথাসম্ভব আর্থিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা শেষ করতে আরও অনেক অর্থের ঘাটতি রয়েছে।এই দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা প্রক্রিয়ার শুরু থেকে যুক্ত থাকা স্থানীয় সমাজকর্মীরা জানান, সীমাবদ্ধতার মাঝেও তাঁরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। প্রিয় গ্রামবাসী ও প্রবাসী ভাইদের অসামান্য সহযোগিতার কারণেই আজ সজিব তার একটি সন্তানের স্থায়ী চিকিৎসা শুরু করার সাহস পেয়েছে। পবিত্র ঈদুল আজহার ত্যাগ ও মহিমান্বিত উৎসবের প্রাক্কালে দেশ এবং প্রবাসের সকল বৃত্তবান ভাই-বোনদের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়েছে, মাটি ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে আপনাদের সামর্থ্যের একটি ছোট্ট অংশ এই অসহায় সজিবের পরিবারের জন্য দান করুন। আপনার একটি ক্ষুদ্র অনুদান হয়তো নিষ্পাপ সুমাইয়াকে একটি নতুন জীবন এনে দিতে পারে। সেবার ব্রত নিয়ে এই মানবিক কাজে আপনার অবদান আপনার ঈদুল আজহার কোরবানি ও ঈদের আনন্দকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। আসুন, পবিত্র ঈদের আনন্দ একা উপভোগ না করে, এই অসুস্থ শিশুটির মুখে হাসি ফোটাতে সবাই যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে আসি এবং সুমাইয়ার দ্রুত সুস্থতার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করি।আর্থিক সাহায্য পাঠানো ও যোগাযোগের ঠিকানা:সরাসরি শিশুর বাবার সাথে যোগাযোগ করে আপনার অনুদান পাঠাতে পারেন:যোগাযোগ ও পার্সোনাল অ্যাকাউন্ট (মোঃ সজিব): +880 1780-114330 (মোবাইল/বিকাশ/নগদ)

  • আশুগঞ্জ
  • থ্যালাসেমিয়া রোগ
  • বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট
  • ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদ