দৈনিক মজুরি কর্মচারীদের স্থায়ী নিয়োগ ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতের দাবিতে ঠাকুরগাঁওয়ে জেলা প্রতিনিধি সভা

প্রকাশক: Dainik Jagroto Matrivumi JM Television
প্রকাশ: 29 seconds ago

মোঃমনির,ঠাকুরগাঁও সদর প্রতিনিধি:

দেশের বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারী ও মাস্টার রোল শ্রমিকদের চাকরির নিরাপত্তা, বয়স শিথিল করে স্থায়ী নিয়োগ, মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সব ধরনের কর্ম বৈষম্য দূরীকরণের দাবিতে ঠাকুরগাঁওয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ জেলা প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বছরের পর বছর আন্তরিকতার সাথে সেবা দিয়েও স্থায়ী নিয়োগ, চাকরির নিশ্চয়তা ও প্রথাগত সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকার প্রেক্ষাপটে এই সভার আয়োজন করা হয়।আজ শনিবার (৬ জুন ২০২৬) ঠাকুরগাঁও শহরের কলেজপাড়া এলাকায় অবস্থিত বিএডিসি খামারে ‘বাংলাদেশ দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারী সমিতি’ ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার উদ্যোগে এই প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা, সরকারি খামার ও কর্মক্ষেত্র থেকে আগত শত শত শ্রমিক প্রতিনিধি স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনের রংপুর বিভাগীয় কমিটির আহ্বায়ক সাগর মিয়া বলেন, “রংপুর বিভাগের ঠাকুরগাঁও জেলার মানুষ অনেক দিক থেকেই সৌভাগ্যবান। কারণ আমরা দেশের অন্যতম বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, বিএনপির মহাসচিব ও সাবেক এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পেয়েছি।

আমাদের এখন সময় এসেছে নিজেদের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি ও অধিকার আদায়ে সবাইকে এক কাতারে দাঁড়াতে হবে। আমরা যদি এখন আমাদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার কথা ও দাবিগুলো সরকারের কাছে যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে না পারি, তাহলে ভবিষ্যতে তা বাস্তবায়ন করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।”তিনি আরও বলেন, “রাষ্ট্রের চাকা সচল রাখা এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির পেছনে এই দৈনিক মজুরি ভিত্তিক শ্রমিকদের অবদান অনস্বীকার্য। অথচ দীর্ঘদিন ধরে তারা চরম অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার। তাই অধিকার আদায়ে সংগঠিত ও সুশৃঙ্খল আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই।”সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রংপুর বিভাগীয় কমিটির সদস্য সচিব আল-আমিন সরকার বলেন, “দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারী ও মাস্টার রোল শ্রমিকদের সমস্যা শুধু একটি জেলার নয়, এটি সারা দেশের এক জ্বলন্ত সমস্যা। যারা বছরের পর বছর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে নিজেদের যৌবনের শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন, তাদের চাকরির ন্যূনতম নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। আমরা বিভাগীয় কমিটি থেকে ইতোমধ্যে বিভিন্ন জেলার শ্রমিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি এবং ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। আপনাদের দাবিগুলো আমরা কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তুলে ধরব এবং বাস্তবায়নের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাব।”সভায় উপস্থিত অন্যান্য বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অনেক শ্রমিক ১০ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত একই পদে কর্মরত থাকলেও এখনো স্থায়ী নিয়োগ পাননি।

ফলে তারা প্রতিনিয়ত চাকরি হারানোর এক মনস্তাত্ত্বিক শঙ্কা নিয়ে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। বক্তারা এ সময় ‘দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারী ও মাস্টার রোল শ্রমিক সাময়িক নীতিমালা-২০২৫’ সম্পূর্ণ শ্রমিক স্বার্থবিরোধী আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে বাতিলের জোর দাবি জানান। তারা বলেন, এই নীতিমালা শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং চাকরির অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।তাই অবিলম্বে এই বিতর্কিত নীতিমালা বাতিল করে বয়স শিথিলের মাধ্যমে কর্মরত সকল শ্রমিককে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে সরাসরি স্থায়ী নিয়োগ দিতে হবে। একই সাথে শ্রমিকদের জন্য ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ, চিকিৎসা সুবিধা, উৎসব ভাতা, পেনশন, মাতৃত্বকালীন ছুটি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং নারী শ্রমিকদের জন্য বৈষম্যহীন আইনগত সুবিধা নিশ্চিত করার দাবিও জানান তারা।রংপুর বিভাগীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সোবহানের অত্যন্ত দক্ষ ও সুশৃঙ্খল সঞ্চালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন—বিভাগীয় কমিটির সদস্য তাহমিনা বেগম, ঠাকুরগাঁও জেলা কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম সেতু এবং অমর ফারুক রায়হান প্রমুখ।প্রতিনিধি সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন—বিভাগীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম খোকন, রাকিবুল ইসলাম, সুলতান মিয়া, আসিব রহমান, হাসান আলীসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার নেতৃবৃন্দ। সভার শেষ পর্বে সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে ভবিষ্যৎ কর্মসূচি ও আন্দোলনের কৌশল নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করা হয়।

  • ঠাকুরগাঁও সংবাদ
  • দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারী
  • বিএডিসি খামার
  • মাস্টার রোল শ্রমিক