
আব্বাস উদ্দিন, সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া):
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলা সদরের সৈয়দটুলা গ্রামে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত কিশোর রায়হানের খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে তার মায়ের নেতৃত্বে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বুধবার (১০ জুন ২০২৬) সকাল সাড়ে ১১টায় সরাইল সদর ইউনিয়নের সৈয়দটুলা গ্রামের উত্তরপাড়ার সর্বস্তরের সচেতন এলাকাবাসীর উদ্যোগে এই বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়। মিছিলটি উত্তরপাড়া এলাকা থেকে শুরু হয়ে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে মিছিলটি সরাইল উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে গিয়ে এক সংক্ষিপ্ত পথসভায় মিলিত হয়।
পথসভায় নিহত কিশোর রায়হানের মা হনুফা বেগম তাঁর বক্তব্যে কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং ছেলের হত্যাকারীদের ফাঁসি দাবি করেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন—সালা উদ্দিন, ইসমাইল মিয়া ও মাহফুজ মিয়া প্রমুখ।
বক্তারা গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নিষ্পাপ কিশোর রায়হান হত্যাকাণ্ডের পর বেশ কয়েকজন দিন পেরিয়ে গেলেও মূল আসামিরা এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমরা পুলিশ প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রকৃত মূল অপরাধীদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির ডাক দেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়া সংবাদমাধ্যমকে জানান, “কিশোর রায়হান হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটিকে পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে। এই মামলার এজাহারনামীয় একজন আসামিকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত বাকি আসামিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
উল্লেখ্য, গত ৩০ মে ২০২৬ তারিখ রাত ১১টার দিকে সরাইল সদর ইউনিয়নের সৈয়দটুলা গ্রামের উত্তরপাড়ায় মাদক কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের নির্মম হামলায় একই গ্রামের মৃত ছোটন মিয়ার ছেলে কিশোর রায়হান (১৭) গুরুতর আহত ও পরবর্তীতে নিহত হয়। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৩১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও বেশ কয়েকজনকে আসামি করে সরাইল থানায় একটি নিয়মিত হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
