
জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান তীব্র লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদ এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা। এ সময় তাঁরা দীর্ঘক্ষণ উপকেন্দ্রের সামনে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। গত রবিবার (২৮ জুন ২০২৬) রাত ৯টার দিকে উপজেলার জোনাইল এলাকায় অবস্থিত পল্লী বিদ্যুতের উপকেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে।
মাদারগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের আঞ্চলিক কার্যালয় (জোনাল অফিস) সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পুরো এলাকাই পল্লী বিদ্যুতের আওতাভুক্ত। এখানে প্রায় এক লাখ নিয়মিত গ্রাহক রয়েছেন। পুরো উপজেলায় প্রতিদিন গড়ে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৮ মেগাওয়াট। তবে কয়েক সপ্তাহ ধরে জাতীয় গ্রিড থেকে মাদারগঞ্জের জন্য পাওয়া যাচ্ছে মাত্র সাত থেকে আট মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অর্ধেকেরও কম থাকায় বাধ্য হয়ে প্রতিদিন ব্যাপক লোডশেডিং করতে হচ্ছে। ফলে সাধারণ গ্রাহকদের দুর্ভোগ এখন চরম সীমায় পৌঁছেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অন্যান্য দিনের তুলনায় গত রবিবার দিন-রাত মিলিয়ে মাদারগঞ্জে বিদ্যুৎ ছিলই না। এর মধ্যে গ্রীষ্মের তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন সাধারণ বাসিন্দারা।
অতিষ্ঠ হয়ে জোনাইল ও পৌরসভাসহ বিভিন্ন এলাকার ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে রাত ৯টার দিকে জোনাইল বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ঘেরাও করেন।এ সময় তাঁরা বিদ্যুতের দাবিতে এবং পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে মাদারগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও মাদারগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পরে পুলিশ ও বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের সাথে সরাসরি কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। প্রায় আধা ঘণ্টা অবস্থান ও বিক্ষোভ শেষে কর্মকর্তাদের আশ্বাসে গ্রাহকেরা স্থান ত্যাগ করেন।জোনাইল এলাকার বাসিন্দা রবিউল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২০ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকে না। গরমে শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক—সবাই অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এখানে বিদ্যুৎ যায় না, বরং মাঝেমধ্যে ভুলে আসে! চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের একটি ম্যাচও আমরা পুরোটা শান্তিতে দেখতে পারছি না।
২০–২৫ মিনিটের জন্য বিদ্যুৎ এলেও আবার কয়েক ঘণ্টার জন্য চলে যায়। এমন অনিশ্চিত বিদ্যুৎ সরবরাহে স্বাভাবিক জীবনযাপনই কঠিন হয়ে পড়েছে।’পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাদারগঞ্জ জোনাল কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) সৈয়দা ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, ‘কয়েক শ লোক ওই উপকেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছিলেন। সত্যিকার অর্থে আমাদের যা প্রকৃত চাহিদা, তার তুলনায় আমরা জাতীয় গ্রিড থেকে বরাদ্দ অনেক কম পাচ্ছি। যার কারণে আমরা বাধ্য হয়ে রোটেশন অনুযায়ী লোডশেডিং করছি। এই বাস্তব চিত্রগুলো আমরা ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের বুঝিয়ে বলার পর তাঁরা শান্ত হন। এই সংকটের স্থায়ী সমাধান করতে হলে মাদারগঞ্জের জন্য সরকারি বিদ্যুতের বরাদ্দ বাড়াতে হবে। ইতিমধ্যে সার্বিক সমস্যার বিষয়টি আমরা লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’
