
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদপত্রের পাতায় প্রায়ই দেখা যাচ্ছে যে, চীনা যুবকরা প্রেমের টানে সুদূর চীন থেকে বাংলাদেশে ছুটে আসছেন এবং বাঙালি তরুণীদের বিয়ে করছেন। আপাতদৃষ্টিতে একে অত্যন্ত রোমান্টিক মনে হলেও, এই ট্রেন্ডের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক ভয়াবহ সামাজিক ও মানবিক সংকট। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রেই এই তথাকথিত ‘প্রেম’ আসলে একটি সুপরিকল্পিত ফাঁদ।
সোশ্যাল মিডিয়ায় বিয়ের সাজে কোনো চীনা যুবকের বাংলাদেশে আসার ভিডিও দেখে আমরা মুগ্ধ হই। কিন্তু এই মুগ্ধতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা অন্ধকার রূপটি এখন সচেতন মহলে বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেন হঠাৎ চীনা যুবকদের কাছে বাংলাদেশের মেয়েরা এত জনপ্রিয় হয়ে উঠল, তার পেছনে আছে এক করুণ সামাজিক বাস্তবতা। চীনে দীর্ঘদিন ধরে চলা ‘এক সন্তান নীতি’র ফলে সেখানে নারী-পুরুষের অনুপাতে এক বিশাল ব্যবধান তৈরি হয়েছে। কয়েক কোটি পুরুষের জন্য সেখানে কোনো পাত্রী নেই। তদুপরি, চীনে বিয়ে করা মানেই বিশাল এক অর্থনৈতিক বোঝা—বাড়ি, গাড়ি আর বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা কনেকে দিতে হয়। এই সংকট থেকে বাঁচতেই অনেক চীনা যুবক এখন দক্ষিণ এশিয়ার গরিব বা মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়েদের লক্ষ্য বানাচ্ছে।
সব ভালোবাসা হয়তো মিথ্যে নয়, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে এই প্রেমের অভিনয় করা হয় কেবল একটি নীল নকশা বাস্তবায়নের জন্য। ইন্টারনেটে স্বল্প দিনের পরিচয় বা কোনো দালালের মাধ্যমে হওয়া এসব বিয়ের শেষটা বেশিরভাগ সময় চোখের জলে হয়। অতীতে এমন অনেক ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে বিয়ের পর চীনে নিয়ে গিয়ে আমাদের দেশের মেয়েদের দাসের মতো খাটানো হচ্ছে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে তাদের দেহব্যবসায় নামাতে বা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পাচারকারী চক্রের হাতে তুলে দিতেও দ্বিধা করছে না পাষণ্ডরা।
অনেকে ভাবেন চীনে গেলে হয়তো উন্নত জীবন পাওয়া যাবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, যে যুবক নিজেকে বড় ব্যবসায়ী বলে পরিচয় দিয়েছিলেন, নিজ দেশে গিয়ে দেখা যায় তিনি অতি সাধারণ একজন কৃষক বা ভবঘুরে। ভাষা ও পরিবেশের ভিন্নতায় সেখানে আমাদের দেশের মেয়েরা কোনো সাহায্য পায় না এবং শুরু হয় অমানুষিক নির্যাতন। যখন তারা বুঝতে পারেন যে ফাঁদে পড়েছেন, তখন ফেরার আর কোনো পথ থাকে না।
তাই এই ‘প্রেমের জোয়ারে’ গা ভাসানোর আগে প্রতিটি পরিবারের উচিত শতবার ভাবা। রঙিন স্বপ্নের আড়ালে কোনো পাচারকারী চক্র কাজ করছে কি না, সেটি যাচাই করা খুব জরুরি। মুহূর্তের আবেগে বা সচ্ছলতার মোহে পড়ে নিজের জীবনকে অনিশ্চিত অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেবেন না। সচেতন হোন, কারণ আপনার একটি ভুল সিদ্ধান্ত আপনার জীবনকে নরকে পরিণত করতে পারে।
