কী ঘটেছিল ছোট্ট রামিসার সঙ্গে, জবানবন্দিতে যা জানাল সোহেল!!

প্রকাশক: Dainik Jagroto Matrivumi JM Television
প্রকাশ: 18 hours ago

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর অত্যন্ত নৃশংসভাবে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে লোমহর্ষক জবানবন্দি দিয়েছে গ্রেফতারকৃত মূল আসামি সোহেল রানা। গত বুধবার (২০ মে) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আসামির এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত ঘাতক সোহেলকে কঠোর নিরাপত্তায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেন।এর আগে গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে পল্লবীর একটি বহুতল ভবনের ফ্ল্যাটের শয়নকক্ষের খাটের নিচ থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং পরবর্তীতে বাথরুমের একটি বালতি থেকে তার খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। এই বর্বরোচিত ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হওয়ার পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেফতার করে।আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, জবানবন্দিতে ঘাতক সোহেল রানা স্বীকার করেছে যে, গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা নিজের ঘর থেকে বাইরে বের হলে সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে এবং অত্যন্ত চাতুর্যের সাথে নিজেদের রুমের ভেতরে ডেকে নিয়ে যায়।

এরপর রামিসাকে বাথরুমে আটকে রেখে পাশবিকভাবে ধর্ষণ করে সোহেল। লম্পট সোহেলের এই অমানুষিক নির্যাতনে তীব্র যন্ত্রণায় একপর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে ছোট্ট রামিসা। ঠিক ওই মুহূর্তেই রামিসার মা সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মেয়েকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন এবং একপর্যায়ে সোহেলের বাসার দরজায় এসে জোরে কড়া নাড়তে থাকেন। বাইরে ভুক্তভোগীর মায়ের কণ্ঠ ও অবিরাম ডাকাডাকি শুনে ভেতরে চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়ে ঘাতক সোহেল। নিজের অপরাধ ধামাচাপা দিতে সে তখনই বাথরুমে অবচেতন অবস্থায় পড়ে থাকা রামিসাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নির্মমভাবে গলাকেটে হত্যা করে।জবানবন্দিতে সে আরও জানায়, গলাকেটে হত্যার পর মরদেহ সম্পূর্ণ গুম করার উদ্দেশ্যে একটি ধারালো ছুরি দিয়ে রামিসার মাথা কেটে শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়। এছাড়া দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক কেটে আলাদা করে মরদেহ বাথরুম থেকে টেনে এনে শয়নকক্ষের খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয় এবং ছুরি দিয়ে শিশুটির সংবেদনশীল অঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা হয়। আর খণ্ডিত মাথাটি বাথরুমের ভেতরে একটি প্লাস্টিকের বালতির মধ্যে লুকিয়ে রাখা হয়।

এই পুরো ভয়ংকর ও নৃশংস ঘটনার সময় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার একই ঘরের ভেতর উপস্থিত ছিল। একপর্যায়ে ঘরে মানুষ ঢোকার উপক্রম হলে তারা কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ঘাতক সোহেল আদালতকে আরও জানায়, এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড ঘটানোর আগে সে নিজে অতিমাত্রায় ইয়াবা সেবন করেছিল, তবে ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে তাদের পূর্ব কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল না।মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, দীর্ঘক্ষণ রামিসার কোনো সন্ধান না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা যখন চারদিকে খোঁজাখুঁজি করছিলেন, তখন আচমকা অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের দরজার সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তারা। এতে সন্দেহ তীব্র হলে প্রতিবেশীদের সহায়তায় অনেক ডাকাডাকির পরও ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে তারা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। ওই সময় ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে খাটের নিচে রামিসার মস্তকবিহীন রক্তাক্ত মরদেহ এবং বাথরুমের বালতিতে খণ্ডিত মাথা দেখে স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। ঘটনার পরপরই পুলিশ দ্রুত তৎপর হয়ে প্রথমে স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করে এবং পরবর্তীতে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সম্মুখভাগ থেকে মূল ঘাতক সোহেল রানাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

  • ঢাকা অপরাধ
  • ধর্ষণ ও হত্যা
  • পল্লবী থানা
  • মিরপুর সংবাদ
  • শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড
  • সোহেল রানা জবানবন্দি
  • স্বপ্না আক্তার গ্রেফতার