
লাইফস্টাইল ডেস্ক:
দাম্পত্য জীবনের মূল ভিত্তি হলো পারস্পরিক ভালোবাসা, বিশ্বাস এবং গভীর মানসিক বন্ধন। তবে অনেক সময় বিভিন্ন শারীরিক কিংবা মানসিক কারণে স্বামী সহবাসে অক্ষম হয়ে পড়তে পারেন, যা একটি সংবেদনশীল স্বাস্থ্যগত সমস্যা হিসেবে বিবেচিত। চিকিৎসকদের মতে, এই সমস্যা নিয়ে অহেতুক লজ্জা বা গোপনীয়তা বজায় রাখার ফলে অনেক পরিবারে অনাকাঙ্ক্ষিত অশান্তি ও ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সহবাসে অক্ষমতার পেছনে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হরমোনজনিত জটিলতা, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, উদ্বেগ কিংবা ধূমপানের মতো অভ্যাসের প্রভাব থাকতে পারে। তবে আশার কথা হলো, আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান ও সঠিক কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে এই ধরনের সমস্যার অধিকাংশেরই সমাধান করা সম্ভব।মনোরোগ ও যৌনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে স্ত্রীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল হওয়া প্রয়োজন।
স্বামীর অক্ষমতাকে কেন্দ্র করে তাঁকে হেয় করা, অপমানজনক মন্তব্য করা কিংবা মানসিক চাপ সৃষ্টি করলে সমস্যাটি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে। বরং স্ত্রীর প্রথম দায়িত্ব হলো ধৈর্য ও সহানুভূতির সঙ্গে স্বামীর পাশে দাঁড়ানো এবং পারস্পরিক খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে মানসিক সমর্থন জোগানো। একটি সুস্থ দাম্পত্য সম্পর্ক শুধু শারীরিক সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; পারস্পরিক সম্মান, আবেগীয় সংযোগ এবং গভীর যত্ন একটি দীর্ঘস্থায়ী ও সুখী জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক বজায় থাকলে যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করা অনেক সহজ হয়ে যায়।সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, দাম্পত্য জীবনের এই ধরনের খুঁটিনাটি সমস্যাগুলো নিয়ে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। সামান্য শারীরিক অক্ষমতাকে কেন্দ্র করে যেন সংসার ভেঙে না যায়, সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা দেখা দিলে লজ্জা কাটিয়ে দম্পতিদের যৌথভাবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া এবং প্রয়োজনে প্রফেশনাল কাউন্সেলিং গ্রহণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
খোলামেলা আলোচনা এবং সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক পরিবারকে অপ্রয়োজনীয় ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব। শেষ পর্যন্ত ভালোবাসা এবং একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধই পারে একটি সম্পর্ককে সব বাধা কাটিয়ে টিকিয়ে রাখতে।
