
নিজস্ব প্রতিবেদক:
মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, তবে সেই ঘোষণা ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে—এমন মন্তব্য করেছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বা জিয়াউর রহমান, কাউকেই মুছে ফেলা সম্ভব নয়। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। কাদের সিদ্দিকী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, অনেক রাজনৈতিক নেতা বিভিন্ন সময় জিয়াউর রহমানকে খাটো করার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু তিনি মোটেও ছোট কেউ নন; বরং তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের এক প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্ব।বঙ্গবীরের মতে, মুক্তিযুদ্ধ না থাকলে বিএনপির অস্তিত্ব থাকত না, আবার সেই মুক্তিযুদ্ধের মূল নেতৃত্বে ছিল আওয়ামী লীগ।
ফলে এই দুই দলেরই মহান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কথা বলার পূর্ণ নৈতিক অধিকার রয়েছে। তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন যে, সেই উত্তাল সময়ে জিয়াউর রহমানই ছিলেন একমাত্র স্বাধীনতার ঘোষক, তবে তিনি সেই ঐতিহাসিক ঘোষণাটি দিয়েছিলেন জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের নামেই। নিজের একক উদ্যোগে তখন স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার মতো পরিস্থিতি বা রাজনৈতিক ক্ষমতা জিয়াউর রহমানের ছিল না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।কাদের সিদ্দিকী তাঁর আলোচনায় আরও বলেন, যেমন হাজার বছরেও শেখ মুজিবুর রহমানকে মানুষের মন থেকে মুছে ফেলা যাবে না, তেমনিভাবে জিয়াউর রহমানকেও অস্বীকার করার উপায় নেই। ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে তিনি মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক এবং শামসুল হকের মতো বরেণ্য ব্যক্তিত্বদের কথাও স্মরণ করেন। তিনি মনে করেন, এই জাতীয় বীরদের অবদানকে খাটো করে দেখা বা ইতিহাস থেকে সরিয়ে দেওয়ার যেকোনো চেষ্টা ব্যর্থ হতে বাধ্য।
