
ইয়াছিন চৌধুরী, নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে মেদির হাওরের প্রায় ৬৫ হেক্টর জমির পাকা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে হাওরপাড়ের শতাধিক কৃষক পরিবার চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, মেদির হাওরের আওতাধীন গোয়ালনগর, ভলাকুট, নাসিরনগর সদর ও বুড়িশ্বর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলে পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পাশাপাশি আশপাশের নিম্নাঞ্চলীয় জমিতেও জলাবদ্ধতা দেখা দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
এলাকাবাসীর মতে, এসব হাওরাঞ্চল স্বাভাবিকভাবেই নিচু হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যায়। এবারের টানা ভারী বর্ষণে পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে মাঠের ধান তলিয়ে গেছে। অনেক স্থানে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে থাকায় কৃষকরা জমিতে প্রবেশ করতে পারছেন না, ফলে ধান কাটার কাজ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, সার, বীজ, সেচ ও শ্রমিক খাতে বিপুল বিনিয়োগের পরও ফসল ঘরে তুলতে না পারলে তারা মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়বেন। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। তবে কৃষি বিভাগ মনে করছে, বৃষ্টি বন্ধ হলে জমে থাকা পানি দ্রুত নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে তলিয়ে থাকা ধান পুনরায় জেগে উঠতে পারে এবং কৃষকরা আংশিক হলেও ফসল ঘরে তুলতে পারবেন।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তালিকা প্রস্তুত করে সরকারি প্রণোদনা ও পুনর্বাসন সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাওর এলাকায় টেকসই পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থারও দাবি উঠেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসাইন বলেন, “অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে থেকে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নিরলসভাবে কাজ করছে। কৃষকদের সার্বক্ষণিক সহায়তা দিতে কৃষি অফিসে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং নতুন করে যারা ক্ষতির মুখে পড়ছেন, তাদের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এসব তথ্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে, যাতে কৃষকরা দ্রুত সরকারি সহায়তা পেতে পারেন। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরকারি মূল্যে খাদ্য গুদামে ধান বিক্রয়ের সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।
