​ভোটের সমীকরণে জামায়াত-এনসিপি ঐক্য: আসন নিয়ে চলছে দড়ি টানাটানি

প্রকাশক: Dainik Jagroto Matrivumi JM Television
প্রকাশ: 3 months ago

জুলাই বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে গঠিত নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গেই নির্বাচনী জোটে যাওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনা শেষে দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতের সাথে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। দলটির অভ্যন্তরীণ উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে এই রেজুলেশন পাস হয়েছে বলে জানা গেছে।​জোট গঠন ও আসন সমঝোতা​নির্বাচনে বিএনপি নাকি জামায়াত—কার সঙ্গে জোট হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন থাকলেও এখন জামায়াত-এনসিপি জোট প্রায় চূড়ান্ত। বর্তমানে দুই দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে আসন ভাগাভাগি নিয়ে দেনদরবার চলছে।​সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে:​এনসিপির চাহিদা: এনসিপি নির্বাচনী জোটে ৫০টিরও বেশি আসন দাবি করছে।​জামায়াতের অবস্থান: জামায়াত নেতারা আসন ছাড়ের ক্ষেত্রে জনমত জরিপকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তারা জানিয়েছেন, কোনো আসনেই মিত্রদের এমনভাবে ছাড় দেওয়া হবে না যেখানে পরাজয়ের ঝুঁকি থাকে। বরং যেসব আসনে জয়ের নিশ্চয়তা বেশি, সেগুলোতেই সমঝোতা করা হবে।​দলের শীর্ষ পর্যায়ের তৎপরতা​এনসিপির একজন যুগ্ম আহ্বায়ক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, জামায়াতের সাথে নির্বাচনী জোট করার বিষয়ে তাদের দলে আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে যোগাযোগের চূড়ান্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দলের সভাপতি ও সেক্রেটারিকে। ইতিমধ্যে উভয় পক্ষের মধ্যে সংলাপ শুরু হয়েছে।​আট দলের জোটে নতুন সমীকরণ​এদিকে জামায়াত সংশ্লিষ্ট আট দলের জোটে এনসিপি যুক্ত হওয়ার খবর নিয়ে অন্য শরীকদের মধ্যেও আলোচনা শুরু হয়েছে। নতুন দল হিসেবে এনসিপি জোটে আসায় আসন বণ্টন নিয়ে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে।​এ বিষয়ে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুস আহমদ জানান, এনসিপি আট দলীয় জোটে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং এ নিয়ে আলোচনা চলছে। জোটের অন্য একজন সহকারী মহাসচিব মন্তব্য করেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের কারিগর হিসেবে এনসিপি জোটে এলে সবাইকে কিছুটা ছাড় দেওয়ার মানসিকতা রাখতে হবে।​সব মিলিয়ে আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও এনসিপির এই সম্ভাব্য জোট দেশের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে যাচ্ছে।