ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পৈতৃক জমি দখল: প্রভাবশালীদের দাপটে দিশেহারা শফিকুল

প্রকাশক: Dainik Jagroto Matrivumi
প্রকাশ: 5 hours ago

জুনায়েদ, ব্রাহ্মণাবাড়িয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের পাঘাচং গ্রামে আদালতের সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা ও মুচলেকা ভঙ্গ করে পৈতৃক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের এক ন্যাক্কারজনক অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকার প্রভাবশালী আবু কাইয়ুম ও তার মেয়ে শান্তনা বেগমের বেপরোয়া দখলদারিত্বের মুখে নিজের ভিটেমাটি হারিয়ে এখন দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন অসহায় শফিকুল ইসলাম।জানাযায়, আবু কায়ুম শফিকুল ইসলামের কাছে ৩০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে বলেন টাকা না দিলে বাড়ি দখল দিবে। যার পরিপ্রেক্ষিতে শফিকুল ইসলাম আবু কাইয়ুমের বিরুদ্ধে আদালতে একটি চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেন। যার(মামলা নং- সি.আর ৪৫৫/১০) প্রাপ্ত তথ্য ও আদালতের নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিবাদী আবু কাইয়ুম আদালতে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার হলে তিনি শফিকুলের সাথে আপস করবে মর্মে আদালতের কাছে লিখিত অঙ্গীকারনামা দিয়েছিলেন যে, মামলার রায় না হওয়া পর্যন্ত তিনি বিতর্কিত ২৯শতক বসত বাড়িতে প্রবেশ করবেন না এবং কাউকে প্রবেশ করতে সহায়তা করবেন না। কিন্তু সেই আইনি প্রতিশ্রুতিকে তোয়াক্কা না করে বর্তমানে তিনি ও তার মেয়ে শান্তনা বেগম জোরপূর্বক সেখানে স্থায়ীভাবে ঘর নির্মাণ করে রেখেছেন।

ভুক্তভোগী শফিকুল ইসলাম (পিতা- মৃত আব্দুল হামিদ ভূঁইয়া) জানান, তার মায়ের দেওয়া পৈতৃক সূত্রের এই ২৯ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলছে। বিবাদী আবু কাইয়ুম ও তার মেয়ে শান্তনা বেগম দলবল নিয়ে শফিকুলের ওপর হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে জমিটি দখল করে নেয়। বর্তমানে সেখানে আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অবৈধ নির্মাণ ও চাষের কাজ চালানো হচ্ছে, যা সরাসরি আইন অমান্যের শামিল।নিজের নামে সাফকাউলা দলিল থাকা এবং যথাযথ খাজনা পরিশোধ করার পরেও জায়গা দখলে রাখার ক্ষমতা নেই শফিকুল ইসলামের। এসব ঘটনা সাংবাদিকদের নজরে আসলে ৪ এপ্রিল রোজ শনিবার কয়েকজন সাংবাদিক সরেজমিনে গেলে সাংবাদিকদের কাজে বাধা প্রধান করেন দখলদার কায়ুমের স্বামী পরিত্যাক্তা মেয়ে শান্তনা। এমনকি সাংবাদিক ও গন্যমান্য ব্যাক্তিদের সামনেই ভুক্তভোগীর গায়ে হাত তুলতে তেড়ে আসেন কয়েকবার, অকথ্য ভাষায় গালাগালি- প্রানে মেরে ফেলার হুমকিসহ ত্রাসের আচরণ শুরু করে।

সাংবাদিকদেরকেও দেখে নেওয়ার হুমকি দেন তিনি।পরে অসহায় শফিকুল ইসলাম নিজের জায়গায় দাড়িয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সাহস না পেয়ে অন্যত্র সরে গিয়ে বলেন, “আদালতে মুচলেকা দিয়েও তারা আইন মানছে না। আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আমি লড়ে যাচ্ছি, কিন্তু তাদের পেশিশক্তির কাছে আমি আজ নিজের জমিতেই দাঁড়াতে পারছিনা। আমি প্রশাসনের কাছে এর বিচার চাই।”সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আদালতের দেওয়া অঙ্গীকারনামা ভঙ্গ করে নির্মাণ কাজ চালানো শুধু অনৈতিক নয়, বরং আদালত অবমাননার মত গুরুতর অপরাধ। এই অবস্থায় ভুক্তভোগী পরিবারটি প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।