বীর মুক্তিযোদ্ধার কবরে আগুন বিজয় দিবসের আগের রাতে

প্রকাশক: Dainik Jagroto Matrivumi JM Television
প্রকাশ: 3 months ago

শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারীয়া ইউনিয়নে মহান বিজয় দিবসের ঠিক আগের রাতে এক ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় এক বীর মুক্তিযোদ্ধার কবরে রাতের আঁধারে আগুন দিয়েছে অজ্ঞাত পরিচয় দুর্বৃত্তরা।​ঘটনাটি ঘটেছে নিয়ামতপুর গ্রামের প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা আ. মান্নান খানের কবরে। তিনি ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছিলেন। ২০১০ সালের ৮ জানুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করলে তাকে বসতবাড়ির পাশেই দাফন করা হয়। বর্তমানে তার স্ত্রী মাহফুজা বেগম এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে সেখানে বসবাস করেন।​পরিবার সূত্রে জানা যায়, সোমবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা আ. মান্নান খানের কবরের ওপর কাঠ জড়ো করে আগুন ধরিয়ে দেয়। মঙ্গলবার সকালে পরিবারের সদস্যরা কবরের কাছে গিয়ে পোড়া কাঠ ও ছাই দেখতে পান। বিজয় দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনের ঠিক আগে কারা, কী উদ্দেশ্যে এই ঘৃণ্য কাজ করেছে, তা নিয়ে অন্ধকারে রয়েছে মৃতের পরিবার। এই ঘটনায় তারা তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।​ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে আফরোজা আক্তার বলেন, ‘মা প্রতিদিনের মতো আজ সকালেও বাবার কবর জিয়ারত করতে গিয়ে আগুনের চিহ্ন দেখতে পান। বিষয়টি দেখে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। তার চিৎকারে আমরাও ছুটে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি, কবরের ওপর ছাই ছড়িয়ে আছে। আগুন সদ্য নিভে গেছে। তখনো ধোঁয়া বের হচ্ছিল। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মুক্তিযোদ্ধাদের জানানো হয়।’​স্বামীর কবরের এমন অবমাননায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী মাহফুজা বেগম। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমার স্বামী দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন। পুরো গ্রাম তার জন্য গর্ব করে। তার কবরের সঙ্গে এমন অবমাননাকর আচরণ মানতে পারছি না। মুক্তিযোদ্ধা বলেই কি তার কবর নিরাপদ নয়? আমি এর বিচার চাই।’​খবর পেয়ে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ সিকদার ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধার কবর অবমাননার খবর পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করব।’​এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইলোরা ইয়াসমিন বলেন, ‘একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার কবরের ওপর আগুন দেওয়ার তথ্য তার মেয়ে আমাকে জানিয়েছেন। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এসিল্যান্ড ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। পুলিশ সুপারের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’