
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম শহর নিউ ইয়র্কের ইতিহাসে এক নতুন ও গৌরবময় অধ্যায়ের সূচনা হলো। শহরটির প্রথম মুসলিম এবং গত কয়েক প্রজন্মের মধ্যে কনিষ্ঠতম মেয়র হিসেবে শপথ নিয়েছেন ৩৪ বছর বয়সী জোহরান মামদানি। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি ২০২৬) নতুন বছরের প্রথম প্রহরে ম্যানহাটনের একটি পরিত্যক্ত ঐতিহাসিক সাবওয়ে স্টেশনে পবিত্র কোরআন হাতে তিনি এই শপথ গ্রহণ করেন।
নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিটিয়া জেমস তাকে এই ঐতিহাসিক শপথবাক্য পাঠ করান। শপথ গ্রহণের জন্য মামদানি বেছে নিয়েছিলেন ১৯৪৫ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া ও নান্দনিক স্থাপত্যের প্রতীক ‘ওল্ড সিটি হল সাবওয়ে স্টেশন’টি। তার ট্রানজিশন টিমের মতে, এই স্থানটি নিউ ইয়র্কের সেই শ্রমজীবী মানুষের ঐতিহ্যের প্রতীক যারা প্রতিদিন শহরটিকে সচল রাখেন।
মধ্যরাতের এই ঘরোয়া অনুষ্ঠানের পর আজ দুপুর ১টায় সিটি হলের সিঁড়িতে একটি বড় জনসমাবেশে তিনি পুনরায় শপথ নেবেন। সেখানে তার আদর্শিক নেতা ও মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স তাকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন এবং বক্তব্য রাখবেন কংগ্রেসওম্যান আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ। এরপর ব্রডওয়ের ‘ক্যানিয়ন অব হিরোস’-এ একটি বর্ণাঢ্য গণসংবর্ধনা ও ব্লক পার্টির আয়োজন করা হয়েছে।
উগান্ডার কাম্পালায় জন্মগ্রহণ করা জোহরান মামদানি বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা মীরা নায়ার এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মাহমুদ মামদানির সন্তান। ১৯৯৯ সালে মাত্র ৭ বছর বয়সে পরিবারের সাথে নিউ ইয়র্কে আসা জোহরান ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করেন। নিজেকে একজন ‘ডেমোক্র্যাটিক সমাজতন্ত্রী’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া মামদানি তার নির্বাচনী প্রচারণায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর ওপর বিশেষ জোর দিয়েছিলেন।
মেয়র হিসেবে তার উল্লেখযোগ্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে— বিনামূল্যে বাস পরিষেবা, ১০ লাখ পরিবারের বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি স্থগিত করা, সবার জন্য চাইল্ডকেয়ার নিশ্চিত করা এবং পরীক্ষামূলকভাবে নগর-পরিচালিত গ্রোসারি স্টোর চালু করা। তবে বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল এই শহরের আবর্জনা ব্যবস্থাপনা, তুষারপাত নিয়ন্ত্রণ এবং সাবওয়ের দীর্ঘসূত্রতা দূর করার মতো মৌলিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় তাকে কঠোর পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হবে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো প্রভাবশালী নেতাদের সাথে রাজনৈতিক মতপার্থক্য সত্ত্বেও শহরের উন্নয়নে তিনি কতটা সমন্বয় করতে পারেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
