
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
সারাদিন কম্পিউটারে কাজ করা বা দীর্ঘক্ষণ স্মার্টফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকার পর অনেকেরই চোখ জ্বালাপোড়া করে কিংবা ঝাপসা লাগে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই সমস্যাকে ‘আই স্ট্রেন’ বা ‘ডিজিটাল আই স্ট্রেন’ বলা হয়। এটি কোনো স্থায়ী রোগ না হলেও নিয়মিত অবহেলা করলে চোখের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হতে পারে।
চোখের স্ট্রেস হওয়ার প্রধান কারণ ডিজিটাল ডিভাইসের অতিরিক্ত ব্যবহার চোখের পেশিকে ক্লান্ত করে ফেলে। এছাড়া কম আলোতে কাজ করা বা পড়ার অভ্যাস চোখের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার সময় আমরা স্বাভাবিকের চেয়ে কম পলক ফেলি, ফলে চোখ দ্রুত শুকিয়ে যায়। আবার চোখের পাওয়ার পরিবর্তন হওয়া সত্ত্বেও পুরনো চশমা ব্যবহার করা কিংবা তীব্র উজ্জ্বল আলোর সামনে দীর্ঘক্ষণ থাকাও আই স্ট্রেনের অন্যতম কারণ।
লক্ষণগুলো কী কী? চোখ জ্বালাপোড়া করা, চুলকানি, চোখ দিয়ে পানি পড়া কিংবা অতিরিক্ত শুকিয়ে যাওয়া আই স্ট্রেনের প্রাথমিক লক্ষণ। এছাড়া কপালের দুই পাশে মাথাব্যথা, সাময়িকভাবে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া এবং আলোর দিকে তাকালে অস্বস্তি বোধ করাও এই সমস্যার সংকেত।
প্রতিকারে করণীয় চোখের ক্লান্তি দূর করতে বিশেষজ্ঞগণ ‘২০-২০-২০’ নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দেন। অর্থাৎ প্রতি ২০ মিনিট কাজ করার পর অন্তত ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। এতে চোখের পেশি শিথিল হয়। এছাড়া স্ক্রিন থেকে চোখের দূরত্ব অন্তত ২০-২৫ ইঞ্চি রাখা এবং ঘরে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা জরুরি।
কাজের ফাঁকে সচেতনভাবে ঘন ঘন চোখের পলক ফেললে চোখ প্রাকৃতিকভাবে আর্দ্র থাকে। ডিভাইসের ব্রাইটনেস চারপাশের আলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা এবং সম্ভব হলে ‘ব্লু লাইট ফিল্টার’ ব্যবহার করা উচিত। চোখে অস্বস্তি হলে হাত দিয়ে না ঘষে পরিষ্কার ঠান্ডা পানি দিয়ে চোখ ধুয়ে নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।
[বিশেষ পরামর্শ: যদি কয়েকদিন নিয়ম মেনে চলার পরও চোখের অস্বস্তি বা মাথাব্যথা না কমে, তবে দ্রুত একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের (Ophthalmologist) পরামর্শ নিন। নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করানো এবং সঠিক পাওয়ারের চশমা ব্যবহার করা দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখার মূল চাবিকাঠি।]
