
সরাইল উপজেলা প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় খাল পুনঃখনন প্রকল্পকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পানি নিষ্কাশন ও কৃষিতে সহায়তার উদ্দেশ্যে গৃহীত এই প্রকল্পের খননকৃত মাটি এখন উল্টো কৃষিজমি দখলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উন্নয়নের নামে এই প্রকল্পে কৃষকের জমি দখলের ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী একটি মহল খাল খননের মাটি ব্যবহার করে পাশের উর্বর কৃষিজমি ভরাট করছে। এতে ধীরে ধীরে জমির আকার ও প্রকৃতি পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে স্থায়ী দখলের পথ তৈরি করছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খননকৃত মাটি সরানোর কোনো সুষ্ঠু পরিকল্পনা না থাকায় দখলদাররা এই সুযোগ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক কৃষক জানান, “আমাদের জমির পাশেই মাটি ফেলে উঁচু করা হচ্ছে। প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকায় আমরা শঙ্কিত যে, কয়েকদিন পর আমাদের জমিগুলোই আর থাকবে না।” প্রকাশ্যে জমি ভরাট চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরবতা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, এই নীরবতা কেবল অবহেলা নয়, বরং একটি সংগঠিত অনিয়মকে প্রশ্রয় দেওয়ার শামিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিকল্পিতভাবে খালের মাটি ফেলার ফলে পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট করবে এবং কৃষিজমির উর্বরতা কমিয়ে দেবে। এ অবস্থায় সরাইলবাসী অবিলম্বে অবৈধভাবে ফেলা মাটি অপসারণ, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
সরাইলের এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, উন্নয়ন প্রকল্পের সঠিক তদারকি না থাকলে তা সাধারণ মানুষের আশীর্বাদ না হয়ে অভিশাপে পরিণত হতে পারে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই নীরবতা দখলদার চক্রকে আরও শক্তিশালী করছে বলে মনে করছেন সরাইলবাসী।
