
সংবাদদাতা : দেলোয়ার হোসাইন মাহদী (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর ও নবীনগর উপজেলার তিনটি কলেজে এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়ে নজিরবিহীন ফলাফল বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।খবর নিয়ে জানা গেছে, বিজয়নগরের নিদারাবাদ ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৬ জন, চান্দপুর আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১১ জন এবং নবীনগরের জিনদপুর ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৩ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তবে তিনটি কলেজেরই সকল শিক্ষার্থী ফেল করেছে।এই হতাশাজনক ফলাফলকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষক সংকট, একাডেমিক দুর্বলতা, ক্লাসে অনিয়মিত উপস্থিতি এবং পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাবই এমন ফলাফলের মূল কারণ।নিদারাবাদ ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল হান্নান মোহাম্মদ আজমল বলেন, আমাদের কলেজ থেকে ৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। তারা সবাই ফেল করেছে। কেউ এক বিষয়ে, কেউ দুই-তিন বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বলেছিল ভালো পরীক্ষা দিয়েছে। তাদের রি-এক্সামিন করার পরামর্শ দিয়েছি। কী কারণে এমন হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।চান্দপুর আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সামসুল হক বলেন, আমাদের কলেজটি মূলত স্কুলভিত্তিক। এ বছর প্রথমবারের মতো পরীক্ষার্থী দিয়েছি। শিক্ষক সংকট, এমপিও না থাকা, খণ্ডকালীন শিক্ষকদের ঘন ঘন পরিবর্তন এবং কমিটির অস্থিরতার কারণে ভালো ফল আসেনি।এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জুলফিকার হোসেন বলেন, এই তিনটি কলেজের ফলাফল বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলোর একাডেমিক তদারকি বাড়ানো হবে এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে।স্থানীয় শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, এ ধরনের ফলাফল কেবল শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত নয়, পুরো জেলার শিক্ষার মান নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। তাই দ্রুত একাডেমিক ঘাটতি পূরণ ও শিক্ষক সংকট নিরসন জরুরি হয়ে পড়েছে।
