
ছবি: খুলনা জনসভায় তারেক রহমান
খুলনা প্রতিনিধি
একটি রাজনৈতিক দল দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী তথা নারী সমাজকে ঘরে আটকে রাখতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) খুলনায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এই দাবি করেন।
তারেক রহমান বলেন, “সরকার গঠন করলে আমাদের প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন করা। দেশের ২০ কোটি মানুষের অর্ধেকই নারী। তাদের পেছনে রেখে কোনো পরিকল্পনা সফল করা সম্ভব নয়। এজন্যই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারীদের জন্য উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন।”
নাম উল্লেখ না করে জামায়াত আমিরের সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, “একটি রাজনৈতিক দলের নেতা পরিষ্কার বলে দিয়েছেন তারা নারী নেতৃত্বে বিশ্বাস করেন না। তিনি কর্মজীবী নারীদের নিয়ে যে শব্দ ব্যবহার করেছেন তা এদেশের জন্য কলঙ্কস্বরূপ। আমাদের মহানবীর (সা.) স্ত্রী বিবি খাদিজা (রা.) ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী ও কর্মমুখী নারী। অথচ এই নেতারা নারীদের অসম্মান করছেন।”
তারেক রহমান আরও বলেন, “যে দলের নেতা নারীদের এভাবে অপমান করতে পারেন, তারা সুযোগ পেলে মা-বোনদের কতটা অপদস্ত করবে তা ভাবা যায় না। এর উদাহরণ ১৯৭১ সালে দেখা গিয়েছিল, যখন তাদের পূর্বসূরীরা লাখ লাখ মা-বোনকে অপদস্ত করেছিল।” জামায়াত আমিরের ফেসবুক আইডি হ্যাক হওয়ার দাবিকে ‘মিথ্যাচার’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বিশেষজ্ঞরা বলেছেন আইডি এভাবে হ্যাক হতে পারে না। এরা মিথ্যাবাদী এবং শুধু নিজেদের স্বার্থ বোঝে।”
বক্তব্যে তিনি গার্মেন্টস শিল্পে কর্মরত ৫০ লাখ নারী শ্রমিকের অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, যারা মানুষের আত্মসম্মান বোঝে না, তাদের কাছে দেশ কখনো নিরাপদ হতে পারে না। তিনি আগামী নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি করে এই অপশক্তিকে রুখে দেওয়ার আহ্বান জানান।
