
আদালত প্রাঙ্গণে পুলিশের নিরাপত্তায় সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক ও সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়া মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার (৭ জানুয়ারি ২০২৬) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন।
দুদকের উপ-পরিচালক মো. হাফিজুল ইসলামের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত জিয়াউল আহসানকে ‘জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ’ সম্পদ অর্জনের এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। শুনানিকালে অভিযুক্ত জিয়াউল আহসানকে কড়া নিরাপত্তায় আদালতে হাজির করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে ২২ কোটি ২৭ লাখ ৭৮ হাজার ১৪২ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তিনি ফরেন এক্সচেঞ্জ ট্রানজেকশন গাইডলাইন লঙ্ঘন করে নিজের ব্যাংক হিসাবে ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার জমা করেছেন। তার নিজের নামে থাকা ৮টি সক্রিয় ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১২০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, জিয়াউল আহসান তার অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ অর্থ স্ত্রী নুসরাত জাহানের সহযোগিতায় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তর করেছেন। এই ঘটনায় তার স্ত্রীকেও মামলার আসামি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ১৫ আগস্ট গভীর রাতে খিলক্ষেত এলাকা থেকে জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ একাধিক মামলায় কারাগারে রয়েছেন। সর্বশেষ দুদকের এই মামলাটি গত বছরের ২৩ জানুয়ারি দায়ের করা হয়েছিল।
