
জুনায়েদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে পৈত্রিক সম্পত্তি জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে জেলা আওয়ামী লীগ নেত্রী ও সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য আনারকলি এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছে। গত সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়নের জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী মো. জসিম উদ্দিন।
লিখিত বক্তব্যে জসিম উদ্দিন জানান, সোনারামপুর মৌজার ১৮৬৮ নম্বর দাগে অবস্থিত ১২ শতক পৈত্রিক জমির বৈধ মালিক তিনি ও তার ভাই-বোনেরা। কিন্তু গত ৭ ডিসেম্বর আনারকলি তার সাবেক স্বামীর আত্মীয়স্বজন ও একদল লোক নিয়ে জোরপূর্বক প্রায় ৩ শতক জমি দখলের চেষ্টা চালান। বাধা দিতে গেলে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এই ঘটনায় তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৪/১৪৫ ধারায় একটি মামলা করেন। আদালত ও থানা থেকে নোটিশ জারি করা হলেও অভিযুক্তরা তা অমান্য করে জমিতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, মামলা করায় ক্ষিপ্ত হয়ে আনারকলি ও তার সহযোগীরা ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দিচ্ছে, যার ফলে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১০৭ ধারায় আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী জসিম উদ্দিন জানান, আনারকলি অতীতে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সরকারি ও রেলওয়ের জমি দখলসহ নানা অপকর্ম করেছেন। ২০২২ সালে তার এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে স্থানীয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ সমাবেশও করেছিল।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের একটি বিস্ফোরক মামলায় আনারকলি প্রধান আসামি হওয়া সত্ত্বেও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। অতীতে তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকদেরও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ করেন জসিম উদ্দিন। বর্তমান পরিস্থিতিতে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
