
ঢাকা, বাংলাদেশ:
কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রায়শই রাজধানী ঢাকায় ঝটিকা মিছিল বের করছে। এসব মিছিলে মাঝে মাঝে ককটেল বিস্ফোরণের মতো ঘটনাও ঘটছে। এই ধরনের কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মী ঢাকার বাইরের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসেছেন।
আজ শুক্রবার (৩১ অক্টোবর, ২০২৫) রাজধানীর মিন্টো রোডে অবস্থিত ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
চলতি বছর আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ-সংগঠনের ঝটিকা মিছিল থেকে মোট কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে— এমন প্রশ্নের জবাবে উপ-পুলিশ কমিশনার তালেবুর রহমান বলেন, চলতি বছরের আজকের দিন পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যারা সরাসরি মিছিলে অংশগ্রহণ করেছে, কেবল তাদেরকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঢাকার বাইরে থেকে এসে কেন অনেকে এখানে মিছিল করার চেষ্টা করছে এবং এর মূল উদ্দেশ্য কী— জানতে চাইলে ডিসি বলেন, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিসহ ঢাকার বাইরে থেকে আসা অনেক কর্মী এই ঝটিকা মিছিলে অংশ নিচ্ছেন। এর পেছনে অর্থায়ন করা হচ্ছে এবং প্রতিটি মিছিলে অংশগ্রহণের জন্য অংশগ্রহণকারীদের একটি সুনির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থও দেওয়া হচ্ছে।
ডিসি তালেবুর রহমান এ ধরনের তৎপরতার উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানান:
একই দিনে ঢাকায় একাধিক ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা প্রসঙ্গে গণগ্রেপ্তারের দিকে পুলিশ এগোচ্ছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটিকে ‘গণগ্রেপ্তার’ বলা যাবে না। পুলিশ কেবল তাৎক্ষণিকভাবে ঝটিকা মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের হাতেনাতে গ্রেপ্তার করছে। গ্রেপ্তার করার পর বিস্তারিত যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তাঁদের পূর্বের ইতিহাস খতিয়ে দেখার পর সন্তুষ্ট হলেই মামলায় চালান দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঢাকার বাইরে থেকে এসে অনেকে মিছিলে অংশ নিয়ে আবার দ্রুত চলে যাচ্ছেন। অনেককে আবার ককটেলসহ হাতেনাতে ধরা হয়েছে। এই ককটেলগুলো অত্যন্ত বিপজ্জনকভাবে তৈরি করা হয়েছে।
