২০২৬ সালের শুরুতেই হুঙ্কার সি চিন পিংয়ের: তাইওয়ানকে ফের চীনের অংশ করার প্রতিশ্রুতি

প্রকাশক: Dainik Jagroto Matrivumi
প্রকাশ: 1 month ago

ইংরেজি নববর্ষের (২০২৬) প্রাক্কালে দেওয়া ভাষণে তাইওয়ানকে চীনের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে পুনরায় একীভূত করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বেইজিং থেকে প্রচারিত বাৎসরিক ভাষণে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, মাতৃভূমির পুনর্মিলন একটি অপ্রতিরোধ্য ধারা এবং এটি সময়ের দাবি, যা কেউ রুখতে পারবে না।

উল্লেখ্য, তাইওয়ানকে ঘিরে চীনের নজিরবিহীন সামরিক মহড়া ‘জাস্টিস মিশন ২০২৫’ শেষ হওয়ার মাত্র এক দিন পরই সি চিন পিংয়ের এই কড়া বার্তা এল। সোমবার ও মঙ্গলবার তাইওয়ানের প্রধান বন্দরগুলো অবরোধের অনুকরণে চীনা নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও কোস্ট গার্ড এই মহড়া চালায়। এতে রেকর্ড ৮৯টি যুদ্ধবিমান অংশ নেয়। বিশ্লেষকদের মতে, তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ১১.১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির প্রতিবাদেই বেইজিং এই হার্ডলাইন বেছে নিয়েছে।

ভাষণে সি চিন পিং বলেন, চীন ‘খোলা বাহুতে বিশ্বকে আলিঙ্গন করছে’। তিনি গত আগস্টে তিয়েনচিনে অনুষ্ঠিত সাংহাই কো-অপারেশন সামিটের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন, যেখানে ভ্লাদিমির পুতিন ও নরেন্দ্র মোদির মতো বিশ্বনেতারা উপস্থিত ছিলেন। সির ভাষণের সময় রাষ্ট্রীয় টিভিতে গত সেপ্টেম্বরের সামরিক প্যারেডের দৃশ্য দেখানো হয়, যেখানে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনকে তাঁর পাশে দেখা যায়। পশ্চিমা বিশ্লেষকরা এই জোটকে ‘অস্থিরতার অক্ষ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

ভাষণে প্রেসিডেন্ট সি ‘তাইওয়ান প্রত্যাবর্তন দিবস’ (২৫ অক্টোবর)-এর রাজনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। যদিও তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিংতে অভিযোগ করেছেন, চীন এই দিনটিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

রাজনৈতিক বার্তার পাশাপাশি সি চিন পিং চীনের প্রযুক্তিগত সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। তিনি মে মাসে উৎক্ষেপিত ধূমকেতু অনুসন্ধান মিশন ‘তিয়ানওয়েন-২’ এবং কিকবক্সিং রোবটের সাফল্যের কথা উল্লেখ করেন। এছাড়া ভিডিও গেম ‘ব্ল্যাক মিথ: উকং’ এবং অ্যানিমেটেড সিনেমা ‘নে ঝা ২’-এর মাধ্যমে চীনা সংস্কৃতির বিশ্বব্যাপী জয়গান করেন তিনি।

  • আন্তর্জাতিক রাজনীতি
  • চিন পিং
  • চীন
  • তাইওয়ান