
মানুষের শরীরের জন্মগত তিল নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই। প্রাচীন সামুদ্রিক শাস্ত্র বা জ্যোতিষশাস্ত্রে শরীরের বিভিন্ন স্থানে তিলের অবস্থান দেখে ব্যক্তির ভাগ্য ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নানা পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কিছু নির্দিষ্ট স্থানে তিল থাকা ‘ধনবান’ হওয়ার লক্ষণ হিসেবে গণ্য করা হয়। চলুন জেনে নেওয়া যাক সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিত এমন ৮টি গুরুত্বপূর্ণ স্থান সম্পর্কে:
১. কপালে তিল: কপালের ঠিক মাঝখানে তিল থাকাকে অত্যন্ত শুভ মনে করা হয়। এটি ব্যক্তির আত্মবিশ্বাস ও সমৃদ্ধির প্রতীক। যাদের কপালের ডান দিকে তিল থাকে, তাদের অর্থ উপার্জনের ভাগ্য বেশ ভালো হয় বলে বিশ্বাস করা হয়।
২. ডান গালে তিল: ডান গালে তিল থাকা মানেই হলো বিয়ের পর ওই ব্যক্তির ভাগ্যের দ্রুত পরিবর্তন। এটি কেবল ধন-সম্পদ নয়, বরং সুখী দাম্পত্য জীবনেরও ইঙ্গিত দেয়।
৩. নাভিতে তিল: নাভির আশেপাশে বা ভেতরে তিল থাকাকে সৌভাগ্যের লক্ষণ ধরা হয়। লোকজ বিশ্বাস অনুযায়ী, এমন ব্যক্তিরা আরাম-আয়েশে জীবন কাটাতে পছন্দ করেন এবং তাদের হাতে সবসময় অর্থের যোগান থাকে।
৪. হাতের তালুতে তিল: যাদের হাতের তালুর ভেতরের দিকে তিল থাকে, তারা সাধারণত পরিশ্রমী ও মিতব্যয়ী হন। বিশেষ করে মুঠো করলে যদি তিলটি ভেতরে থাকে, তবে একে অর্থ ধরে রাখার বা সঞ্চয়ের দারুণ সংকেত মনে করা হয়।
৫. থুতনিতে তিল: থুতনিতে তিল থাকা ব্যক্তিরা সাধারণত ভ্রমণপিপাসু হন। শাস্ত্রমতে, এরা কখনোই খুব বেশি আর্থিক সংকটে পড়েন না এবং এদের জীবনে কোনো না কোনোভাবে অর্থের আগমন ঘটে।
৬. বুকে তিল: যাদের বুকের ঠিক মাঝখানে বা ডান দিকে তিল থাকে, তারা বেশ সম্পদশালী হন। এদের সামাজিক জীবনে বেশ প্রভাব-প্রতিপত্তি থাকে এবং এরা বেশ শান্ত প্রকৃতির হয়ে থাকেন।
৭. পিঠে তিল: পিঠে তিল থাকা মানেই হলো রাজকীয় যোগ। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, এই ব্যক্তিরা জীবনে প্রচুর ধন-সম্পদ অর্জন করেন এবং বেশ বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন। তবে এরা বেশ উদার মনের মানুষও হয়ে থাকেন।
৮. পায়ের পাতায় তিল: যাদের পায়ের পাতায় তিল রয়েছে, তারা জীবনে প্রচুর ভ্রমণের সুযোগ পান। এটি কেবল ঘুরে বেড়ানো নয়, বরং পেশাগত কারণে বিদেশ ভ্রমণের মাধ্যমে আর্থিক উন্নতিরও ইঙ্গিত দেয়।
সতর্কতা: তিল দেখে ভাগ্য গণনা সম্পূর্ণ একটি বিশ্বাস বা শাস্ত্রীয় ধারণার ওপর নির্ভরশীল। কঠোর পরিশ্রম এবং সঠিক পরিকল্পনাই মানুষের সফল ও ধনী হওয়ার আসল চাবিকাঠি।
