রাকসু ভিপির হুঁশিয়ারি: ‘প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার অবশ্যই বন্ধ করতে হবে’

প্রকাশক: Dainik Jagroto Matrivumi
প্রকাশ: 2 months ago
রাজশাহীতে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন রাকসু ভিপি ও শিবির নেতা মোস্তাকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোস্তাকুর রহমান দেশের শীর্ষস্থানীয় দুই সংবাদপত্র ‘প্রথম আলো’ ও ‘দ্য ডেইলি স্টার’ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে তিনি এই ঘোষণা দেন। তাঁর এই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত ছাত্র-জনতার উদ্দেশ্যে মোস্তাকুর রহমান বলেন, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের মতো তথাকথিত সুশীল সংবাদপত্রগুলোকে বাংলাদেশে অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আরও বলেন, তাদের এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যদি উক্ত দুই পত্রিকার কোনো সংবাদকর্মী উপস্থিত থাকেন, তবে তাদের যেন অবিলম্বে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, রাজশাহীতে যখন এই ঘোষণা দেওয়া হচ্ছিল, ঠিক তার কিছু সময় আগেই ঢাকার কারওয়ান বাজার ও কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউতে অবস্থিত পত্রিকা দুটির কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। সন্ত্রাসীরা কার্যালয় দুটিতে ঢুকে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে, যার ফলে দীর্ঘক্ষণ সেখানে সংবাদকর্মীরা আটকা পড়ে ছিলেন।

একই সমাবেশ থেকে রাকসু ভিপি রাজশাহীতে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন উচ্ছেদেরও দাবি জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে মাত্র দুটি ভারতীয় হাইকমিশন রয়েছে, যার একটি রাজশাহীতে। এই হাইকমিশনটি উচ্ছেদ করা এখন সময়ের দাবি। পাশাপাশি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামী লীগ ঘরানার কোনো শিক্ষককে ক্লাসে আসতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি চূড়ান্ত ঘোষণা দেন। শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, এই রক্ত বৃথা যাবে না এবং এর মধ্য দিয়ে লক্ষ হাদির জন্ম হবে।

এদিকে, এই বিক্ষোভ মিছিলটি যখন নগরের সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে পৌঁছায়, তখন সেখানে অবস্থিত আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের সামনে অগ্নিসংযোগ করেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার ঘোষণা দেন যে, আওয়ামী লীগের এই কার্যালয়টি ভেঙে সেখানে পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হবে। তাঁর এই ঘোষণার পরপরই একটি বুলডোজার দিয়ে দলীয় কার্যালয়টি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

রাকসু ভিপির এমন বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান ছাত্র নেতারা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুস সবুর ফেসবুকে এক প্রতিক্রিয়ায় প্রশ্ন তোলেন, মোস্তাকুর রহমান কি নির্বাচিত রাকসু ভিপি হিসেবে এই বক্তব্য দিচ্ছেন নাকি শিবিরের সভাপতি হিসেবে? তিনি এই ধরণের বক্তব্যকে ‘মবের উসকানি’ হিসেবে অভিহিত করে শিক্ষার্থীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, এই পরিস্থিতি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেঘমল্লার বসু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের উদ্বেগের কথা জানান। তিনি মন্তব্য করেন যে, এক পক্ষ পত্রিকা ও সাংস্কৃতিক সংগঠন তছনছ করার হুমকি দিচ্ছে, আর অন্য পক্ষ তা নিন্দা জানানোর নাটক করছে। এই সামগ্রিক পরিস্থিতিকে তিনি একটি বারবার ফিরে আসা রাজনৈতিক খেলার অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

  • আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভাঙচুর
  • ইনকিলাব মঞ্চ
  • গণমাধ্যম বিতর্ক
  • ছাত্রশিবির
  • ডেইলি স্টার
  • প্রথম আলো
  • ভারতীয় হাইকমিশন উচ্ছেদ
  • মোস্তাকুর রহমান
  • রাকসু ভিপি
  • রাজশাহী নিউজ
  • রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
  • শরিফ ওসমান বিন হাদি