
বর্তমান সময়ে অনিয়মিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে অনেক পুরুষের মধ্যেই প্রজনন ক্ষমতা বা ফার্টিলিটি কমে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তবে চিকিৎসকদের মতে, কেবল ওষুধ নয়, বরং দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় সামান্য পরিবর্তন আনলেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। প্রাকৃতিকভাবে প্রজনন ক্ষমতা বাড়াতে অত্যন্ত কার্যকর এমন ৪টি খাবার হলো:
১. পালং শাক (ফলিক অ্যাসিডের উৎস): পালং শাক বা যেকোনো গাঢ় সবুজ শাকসবজিতে প্রচুর পরিমাণে ফলিক অ্যাসিড বা ভিটামিন বি-৯ থাকে। এটি সুস্থ শুক্রাণু তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শরীরে ফলিক অ্যাসিডের অভাব হলে শুক্রাণুর গুণগত মান কমে যেতে পারে।
২. কুমড়োর বীজ (জিঙ্কের ভাণ্ডার): পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা বাড়াতে খনিজ উপাদান ‘জিঙ্ক’ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কুমড়োর বীজ হলো জিঙ্কের অন্যতম সেরা প্রাকৃতিক উৎস। এটি টেস্টোস্টেরন হরমোন বাড়াতে এবং শুক্রাণুর সংখ্যা বৃদ্ধিতে সরাসরি সাহায্য করে।
৩. টমেটো (লাইকোপেনের শক্তি): টমেটোতে রয়েছে ‘লাইকোপেন’ নামক একটি শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। গবেষণায় দেখা গেছে, লাইকোপেন শুক্রাণুর গঠন উন্নত করে এবং এর চলাচলের গতি বাড়ায়। রান্না করা টমেটোতে লাইকোপেনের পরিমাণ বেশি থাকে, তাই স্যুপ বা তরকারিতে এটি বেশি উপকারী।
৪. ডিম (ভিটামিন ডি ও বি-১২): প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধিতে ডিমকে ‘সুপারফুড’ বলা হয়। ডিমে থাকা ভিটামিন ডি এবং বি-১২ শুক্রাণুর মান উন্নত করে এবং শরীরের হরমোন নিঃসরণ প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখে।
জীবনযাত্রায় জরুরি পরিবর্তন: খাবারের পাশাপাশি প্রজনন ক্ষমতা ঠিক রাখতে পর্যাপ্ত ঘুম (৭-৮ ঘণ্টা), ধূমপান বর্জন এবং নিয়মিত ব্যায়াম করা জরুরি। এছাড়া অতিরিক্ত মানসিক চাপ হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, তাই দুশ্চিন্তামুক্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে।
পরামর্শ: দীর্ঘকাল কোনো সমস্যা অনুভব করলে ঘরোয়া খাবারের পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।
