কিউবাকে তেল দিলেই চড়া শুল্কের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

প্রকাশক: Dainik Jagroto Matrivumi
প্রকাশ: 5 days ago
ছবি: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কিউবার জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দেশটির কমিউনিস্ট সরকারকে কোণঠাসা করতে নতুন কৌশল নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) তিনি এমন একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন, যার ফলে যেসব দেশ কিউবাকে তেল সরবরাহ করবে, সেসব দেশের পণ্যের ওপর চড়া শুল্ক আরোপ করতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউস এই পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করেছে।

ট্রাম্পের এই আদেশে নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ না থাকলেও বিশ্লেষকদের মতে, এর মূল লক্ষ্য মেক্সিকো। মেক্সিকো বর্তমানে কিউবার অন্যতম প্রধান জ্বালানি সহায়তাকারী। ট্রাম্পের এই হুমকির মুখে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শিনবাম সাময়িকভাবে কিউবায় তেল পাঠানো বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে তিনি একে চাপের মুখে নেওয়া সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি ‘সার্বভৌম সিদ্ধান্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন বাহিনী ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর থেকেই কিউবার ওপর চাপ বাড়িয়ে চলেছেন ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভেনিজুয়েলা থেকে কিউবায় তেল ও অর্থের প্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘দেরি হওয়ার আগেই কিউবার উচিত একটি চুক্তিতে আসা, নয়তো দেশটি খুব শীঘ্রই ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে।’ বর্তমানে কিউবা তার ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ জ্বালানি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

ট্রাম্পের এই হুমকির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কিউবা সরকার। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ একে ‘নৃশংস আগ্রাসন’ এবং ‘ব্ল্যাকমেইল’ বলে অভিহিত করেছেন। প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-ক্যানেলও স্পষ্ট করেছেন যে, সার্বভৌম দেশ হিসেবে কিউবা কারও চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প শুল্ক বা ট্যারিফকে তার পররাষ্ট্রনীতির প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন, যা লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

  • কিউবা
  • ডোনাল্ড ট্রাম্প
  • তেল সরবরাহ
  • শুল্ক আরোপ