
ঢাকা প্রতিনিধি
সন্ত্রাসবিরোধী আইনে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ। সংগঠনটি এই গ্রেপ্তারকে ‘গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে উল্লেখ করেছে এবং অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানিয়েছে।সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবির এবং সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ এক যৌথ বিবৃতিতে এই প্রতিক্রিয়া জানান।‘স্বৈরাচারী আচরণের পুনরাবৃত্তি’ বিবৃতিতে সম্পাদক পরিষদের নেতৃবৃন্দ বলেন, রোববার সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে ডিবি কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। এরপর তাকে সেখানে দীর্ঘক্ষণ আটকে রেখে পরদিন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এ ধরনের আচরণ অতীতের স্বৈরাচারী শাসনামলের দমন-পীড়নের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, “অতীতের আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও আমরা এমন চর্চা দেখেছি। তখনো সাংবাদিকদের হয়রানি, মিথ্যা মামলা এবং নির্বিচারে গ্রেপ্তার নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা ছিল। বর্তমান সময়ে এসেও সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি অত্যন্ত দুঃখজনক।”আইনি প্রক্রিয়ার ব্যত্যয় সম্পাদক পরিষদ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা অবশ্যই প্রচলিত আইন ও ন্যায়বিচারের মাধ্যমে সুরাহা করতে হবে। কিন্তু কোনো অভিযোগ ছাড়া ডেকে নিয়ে আটকে রাখা এবং পরবর্তীতে কঠোর ধারায় মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার দেখানো কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।মিথ্যা মামলা ও হয়রানি প্রসঙ্গে উদ্বেগ বিবৃতিতে ৫ আগস্টের পরবর্তী পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বলা হয়, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে বহু সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। অনেকেই এখনো কারাগারে দিন কাটাচ্ছেন। সরকারের আইন উপদেষ্টা এসব হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। সম্পাদক পরিষদ অবিলম্বে সকল ভিত্তিহীন মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে।গ্রেপ্তারের প্রেক্ষাপট ও মামলার অভিযোগ উল্লেখ্য, গত রোববার (১৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর ধানমন্ডির একটি জিম থেকে সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়। এরপর ওই রাতেই উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়।মামলায় আনিস আলমগীর ছাড়াও অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনসহ মোট চারজনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, আসামিরা ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় দেশকে অস্থিতিশীল করা এবং অবকাঠামো ধ্বংসের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টেলিভিশনের টকশোতে নিষিদ্ধ সংগঠনকে পুনর্বাসিত করার অপচেষ্টা চালানোর অভিযোগও আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
