
জুনায়েদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে তারাবির নামাজের ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এক সাংবাদিকের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার কাইতলা দক্ষিণ ইউনিয়নে এই ঘটনার সূত্রপাত হয় এবং রাতে সাংবাদিকের বসতবাড়িতে হামলা চালানো হয়। এই ঘটনায় বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক আবদুল হাদী। তিনি নবীনগর নিউ মডেল প্রেস ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ‘ভোরের চেতনা’র উপজেলা প্রতিনিধি।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার জোহরের নামাজের পর স্থানীয় মসজিদে তারাবির নামাজের হুজুর নিয়োগ নিয়ে একটি বৈঠক বসে। বৈঠকে উপজেলা ওলামা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও কাইতলা দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি সৈয়দ আমিনুল ইসলাম স্বপন এবং সৈয়দ নাজমুল এসে ইমামদের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। এক পর্যায়ে সেখানে উপস্থিত দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হলে স্থানীয়রা পরিস্থিতি শান্ত করে সবাইকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সৈয়দ আলমগীর জানান, ৫ই আগস্টের পর থেকেই বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলাম স্বপন এলাকায় নিজের প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছেন। মসজিদের ওই ঘটনার জের ধরে রাতে সৈয়দ আজিজুল ইসলাম খান ঢাকা থেকে এসে তার সহযোগীদের নিয়ে সাংবাদিক আবদুল হাদীর বাড়িতে হামলা চালান। হামলাকারীরা রামদা ও হকিস্টিক দিয়ে সাংবাদিকের টিনের বেড়া এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।
ঘটনার পর দুই পক্ষই বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকলকে আইন হাতে তুলে না নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে সাংবাদিক আবদুল হাদী জানিয়েছেন, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা করা হয়নি। এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
