হঠাৎ শা’রীরিক মি’লন বন্ধ করলে মেয়েদের যা হয়, সকলের জানা উচিৎ

প্রকাশক: Dainik Jagroto Matrivumi
প্রকাশ: 14 hours ago

জীবনসঙ্গীর থেকে দূরে থাকা, বিচ্ছেদ কিংবা অন্য যেকোনো কারণে নিয়মিত শারীরিক সম্পর্কের অভ্যাস যদি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়, তবে নারী শরীরে এর বেশ কিছু প্রভাব পড়তে পারে। বিষয়টি কেবল শারীরিক নয়, বরং মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। চিকিৎসাবিজ্ঞান ও বিভিন্ন গবেষণা বলছে, নিয়মিত শারীরিক সম্পর্কের সময় শরীর থেকে এন্ডোর্ফিন ও অক্সিটোসিনের মতো হরমোন নিঃসৃত হয়, যা মানুষকে মানসিকভাবে শান্ত ও হাসিখুশি রাখে। এই অভ্যাসটি হুট করে বন্ধ হয়ে গেলে নারীদের মধ্যে অস্থিরতা, খিটখিটে মেজাজ এবং অকারণে রাগ বা বিষণ্ণতা তৈরি হতে পারে। এমনকি অনেক সময় তারা মানুষের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলতেও অস্বস্তি বোধ করতে পারেন।

শারীরিক সম্পর্কের একটি বড় ইতিবাচক দিক হলো এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, সপ্তাহে অন্তত দুবার শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হলে শরীরে এমন কিছু হরমোন নিঃসরণ হয় যা সর্দি, কাশি বা জ্বরের মতো সাধারণ রোগব্যাধি প্রতিরোধ করে। এই অভ্যাসটি বন্ধ হয়ে গেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। এছাড়া দীর্ঘদিনের বিরতি হৃদযন্ত্রের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং শরীর আগের চেয়ে বেশি ক্লান্ত ও দুর্বল অনুভূত হতে পারে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যৌন আকাঙ্ক্ষা। অনেকেই মনে করেন দীর্ঘ বিরতির পর আকাঙ্ক্ষা বাড়ে, কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি উল্টো হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। দীর্ঘদিন শারীরিক সম্পর্ক না থাকলে কামবাসনা বা মেলামেলির ইচ্ছা ধীরে ধীরে কমে যেতে শুরু করে এবং এক সময় শরীরে উত্তেজনার বোধও লোপ পেতে পারে। এছাড়া মানসিক অবসাদ ও হরমোনের ভারসাম্যের অভাবে স্মরণশক্তি বা মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতাও কিছুটা কমে যেতে পারে। তবে এর একটি ইতিবাচক দিকও আছে; শারীরিক সম্পর্ক বন্ধ থাকলে মূত্রনালীর সংক্রমণের (ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন) ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। মূলত শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার ভারসাম্য বজায় রাখতে এই পরিবর্তনগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজন।

  • জীবনধারা
  • নারী স্বাস্থ্য
  • স্বাস্থ্য টিপস
  • হরমোন পরিবর্তন