
লাইফস্টাইল ডেস্ক
কিডনিতে পাথর হওয়া এবং কিডনি ক্যানসার সম্পূর্ণ আলাদা দুটি রোগ হলেও, সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় এই দুইয়ের মধ্যে একটি সূক্ষ্ম সম্পর্কের কথা বলা হচ্ছে। সাধারণত কিডনিতে পাথর হয় যখন প্রস্রাবে ক্যালসিয়াম বা ইউরিক অ্যাসিডের মতো খনিজ উপাদানগুলো জমে শক্ত হয়ে যায়। অন্যদিকে, কিডনি ক্যানসার হলো কিডনির কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাথর সরাসরি ক্যানসার তৈরি না করলেও দীর্ঘদিন পাথর জমে থাকা বা বারবার সংক্রমণ হওয়া কিডনির জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
কিডনির পাথর আসলে কী? প্রস্রাবে যখন ক্যালসিয়াম, অক্সালেট বা ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ বেড়ে যায়, তখন সেগুলো স্ফটিকের মতো দানা বাঁধে। এটিই কিডনির পাথর। শরীরে পানির অভাব, অতিরিক্ত লবণ বা প্রোটিন খাওয়া এবং স্থূলতার কারণে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। পাথর ছোট হলে অনেক সময় প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে যায়, কিন্তু বড় হয়ে গেলে তা প্রস্রাবনালিতে আটকে তীব্র ব্যথার সৃষ্টি করে। সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ক্যালসিয়াম অক্সালেট পাথর। এ ছাড়া ইউরিক অ্যাসিড বা সংক্রমণের কারণে হওয়া স্ট্রুভাইট পাথরও অনেকের হয়ে থাকে।
কিডনি ক্যানসারের ঝুঁকি ও লক্ষণ কিডনি ক্যানসার বা রেনাল সেল কার্সিনোমা সাধারণত ৬০ বছর বয়সের পর বেশি দেখা যায়। ধূমপান, উচ্চ রক্তচাপ এবং স্থূলতা এই রোগের বড় ঝুঁকি। ক্যানসারের প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো লক্ষণ বোঝা না গেলেও ধীরে ধীরে কোমরে বা পিঠে স্থায়ী ব্যথা, প্রস্রাবে রক্ত আসা কিংবা অকারণে ওজন কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
পাথর ও ক্যানসারের মধ্যে সম্পর্ক কোথায়? চিকিৎসকদের মতে, যাদের কিডনিতে বারবার পাথর হয়, তাদের ক্ষেত্রে ক্যানসারের ঝুঁকি সাধারণ মানুষের চেয়ে কিছুটা বেশি থাকতে পারে। এর কিছু কারণ হলো:
সতর্ক থাকবেন যেভাবে কিডনির পাথর ও ক্যানসার—উভয় ক্ষেত্রেই কোমরে ব্যথা বা প্রস্রাবে রক্ত আসার মতো মিল থাকতে পারে। পাথরের ব্যথা সাধারণত হঠাৎ ওঠে এবং খুব তীব্র হয়, কিন্তু ক্যানসারের ব্যথা হতে পারে দীর্ঘস্থায়ী ও মৃদু। তাই এমন কোনো লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা করা ঠিক নয়।
কিডনি ভালো রাখতে প্রচুর পানি পান করা, খাবারে লবণের পরিমাণ কমানো এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে যাদের আগে পাথর হয়েছে, তাদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা জরুরি। কারণ প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হওয়া সম্ভব।
