
দেলোয়ার হোসাইন মাহদী (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তৌহিদুজ্জামান নামে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জাল দলিল তৈরি করে সরকারি নথিতে নামজারি করিয়ে জায়গা দখল ও অনুমতি ছাড়াই রেস্টুরেন্ট চালুর অভিযোগ উঠেছে। শহরের কুমারশীল মোড় এলাকায় ‘মাস্টার ক্যাফে’ নামে ওই রেস্টুরেন্ট চালু করা হয়েছে।অভিযোগকারী মো. আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, অভিযুক্ত তৌহিদুজ্জামান কোনো সরকারি অনুমোদন ছাড়াই রেস্টুরেন্টটি পরিচালনা করছেন। তার দাবি, জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে হোটেল-রেস্টুরেন্ট নিবন্ধন, পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স, ফায়ার সার্ভিসের নিরাপত্তা সনদ কিংবা পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র—কোনোটিই নেই এই প্রতিষ্ঠানের।আবুল কালাম আজাদ বলেন, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ঘেঁষে গড়ে উঠেছে এই অবৈধ স্থাপনা। বিষয়টি জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) ও পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে জানালেও তারা এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেননি। বরং তৌহিদুজ্জামান আগের মতোই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।অভিযোগ পত্র জমা দেওয়ার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তারা বলছেন, শহরের ব্যস্ততম এলাকায় অবৈধ স্থাপনা এবং নিরাপত্তাহীন রেস্টুরেন্ট যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে এখনই ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। কালক্ষেপণ না করে এই অবৈধ স্থাপনাটি দ্রুত সিলগালা করা উচিত।অন্যদিকে, প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তারা বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন।সরকারি অনুমতি ছাড়াই রেস্টুরেন্ট পরিচালনা, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি—এই তিনটি বিষয় এখন ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে আলোচনার কেন্দ্রে।
