

নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, "আমি যা বলি, তাই করি। আমার এলাকার মানুষের সিদ্ধান্তই আমার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। আপনারা যদি আমার পাশে থাকেন, তবে মার্কা যাই হোক না কেন, আমি সরাইল-আশুগঞ্জ থেকেই নির্বাচন করব।"
শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের বিটঘর বাজারে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় আয়োজিত এই দোয়া ও আলোচনা সভায় রুমিন ফারহানা তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও নির্বাচনী পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
সরাইল-আশুগঞ্জকে নিয়ে নতুন স্বপ্ন এলাকার মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের কথা উল্লেখ করে রুমিন ফারহানা বলেন, "সরাইল ও আশুগঞ্জ নিয়ে আমার অনেক স্বপ্ন রয়েছে। এই দুটি উপজেলাকে আমি একটি আদর্শ মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সংসদে যেতে পারলে আমি এই স্বপ্নের বাস্তবায়ন করব ইনশাআল্লাহ।"
মনোনয়ন ও বাবার স্মৃতি দেশের অধিকাংশ আসনে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা হলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে এখনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা না হওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি। রুমিন বলেন, "দেশের মানুষ জানে গত ১৭ বছর রাজপথে আমার কী ভূমিকা ছিল। আমি আমার বাবার (অলি আহাদ) অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণ করতেই রাজনীতি করছি। আপনারা পাশে থাকলে যেকোনো চ্যালেঞ্জ জয় করা সম্ভব।"
অবাধ নির্বাচনের দাবি ও সরকারের প্রতি আহ্বান আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে সম্ভাব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "গত ১৫ বছর দেশের মানুষ সঠিকভাবে ভোট দিতে পারেনি। বর্তমান সরকার ২০২৬ সালে একটি স্বচ্ছ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, আমরা তাতে বিশ্বাস রাখতে চাই।"
নির্বাচন সুষ্ঠু করতে তিনি সরকারের কাছে দুটি বিশেষ দাবি জানান: ১. নির্বাচনের আগে দেশব্যাপী সব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে। ২. ৫ আগস্টের পর থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি ভোটার, প্রার্থী ও কর্মীদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
উল্লেখ্য, বিএনপি ইতিমধ্যে দুই দফায় ২৭২টি আসনে তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে এখনো কোনো নাম ঘোষণা করেনি। তবে রুমিন ফারহানা গত কয়েক মাস ধরে এই এলাকায় টানা গণসংযোগ ও সামাজিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন, যা স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।