

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নতুন চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ দায়িত্ব গ্রহণের পরই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি ও কার্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
তার প্রথম নীতি বৈঠকের পর তিনি জানান, অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় ফেডের কার্যক্রমকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।ফেডারেল রিজার্ভ টানা চতুর্থবারের মতো সুদের হার অপরিবর্তিত রেখেছে। বর্তমানে সুদের হার ৩.৫০ শতাংশ থেকে ৩.৭৫ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। তবে চলতি বছরেই সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন নীতিনির্ধারকরা।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এবং ইরানের সঙ্গে সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফেড সুদের হার বৃদ্ধি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।প্রথম সংবাদ সম্মেলনে কেভিন ওয়ার্শ জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি পর্যালোচনায় পাঁচটি বিশেষ কর্মদল গঠন করা হবে। এসব দল ফেডের যোগাযোগ ব্যবস্থা, অর্থ সরবরাহ, তথ্য বিশ্লেষণ পদ্ধতি, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীলতা এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ নীতির ওপর কাজ করবে।তিনি বলেন, “বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় নতুনভাবে চিন্তা করা প্রয়োজন। বছরের শেষ নাগাদ অধিকাংশ সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।”ওয়ার্শ আরও জানান, সুদের হার নিয়ে ভবিষ্যৎ নির্দেশনা বা ‘ফরওয়ার্ড গাইডেন্স’ আপাতত দেওয়া হবে না।
বর্তমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে আগাম পূর্বাভাস দেওয়া যুক্তিযুক্ত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে ফেড চেয়ারম্যান বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২ শতাংশ মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সুদের হার কমানোর প্রত্যাশায় কেভিন ওয়ার্শকে নিয়োগ দিলেও ফেডের অধিকাংশ নীতিনির্ধারক বর্তমানে সুদের হার বাড়ানো বা অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। চলতি বছরে মাত্র একজন কর্মকর্তা সুদের হার কমানোর পক্ষে মত দিয়েছেন।ফেড জানিয়েছে, জ্বালানি খাতের বাইরেও যদি মূল্যস্ফীতির চাপ বৃদ্ধি পায়, তাহলে সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তি কার্যকর হলে এবং হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হলে মূল্যস্ফীতি কমে আসার সম্ভাবনাও রয়েছে।এছাড়া প্রায় ২.৫ বিলিয়ন ডলারের ফেড সদর দপ্তর সংস্কার প্রকল্প নিয়েও তদন্ত চলছে। এ বিষয়ে কেভিন ওয়ার্শ বলেন, প্রকল্পে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে ফেড জানিয়েছে, এই প্রকল্পের ব্যয় সরকারি করের অর্থ থেকে নয়, বরং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব আয় থেকে বহন করা হচ্ছে। সূত্র: CNN